দীর্ঘদিন ধরে তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে বয়স লুকানোর যে অভিযোগ রয়েছে, তা রুখতে এবার কঠোর অবস্থানে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিয়ম অমান্য করে ক্লাবগুলো বেশি বয়সের খেলোয়াড়দের নামিয়ে যে অনৈতিক সুবিধা নিত, তা বন্ধে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সদ্য উদ্বোধন হওয়া তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট কোয়ালিফায়ার টুর্নামেন্টে বিসিবি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ২৫ বছরের বেশি বয়সী কোনো ক্রিকেটার খেলতে পারবেন না। এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিসিডিএম চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন চৌধুরী, বিসিবি পরিচালক শানিয়ান তানিম ও আসিফ রাব্বানি, প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন এবং জাতীয় দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ উপস্থিত ছিলেন। ২৫-এর বেশি একজনও খেলতে পারছে না এখানে।’।
অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে সিসিডিএম চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন চৌধুরী জানান, বয়সসীমার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা ২৫ নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনোভাবেই এই সীমার অতিরিক্ত বয়সী ক্রিকেটার মাঠে নামতে পারবেন না বলে তিনি হুশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের বয়স নিয়ে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। টুর্নামেন্ট সংশ্লিষ্ট আম্পায়ার ও অন্যান্য বিভাগগুলোর সঙ্গে সিসিডিএম বিস্তারিত আলোচনা করেছে। এই টুর্নামেন্টে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ক্লাবের প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই। শতভাগ নিরপেক্ষভাবে খেলা পরিচালনা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বয়সের সীমা নিয়ে সিসিডিএম চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের যারা এখন আছে, এটা একদম সর্বোচ্চ সীমা ২৫ করে দিয়েছি। তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো রকমের কারও ইনফ্লুয়েন্স, কোনো বড় বড় লোকের কোনো ইনফ্লুয়েন্স হবে; এরকম কোনো সুযোগ নেই এই খেলায়। আপনারা নিজেরাই ওই খেলাগুলো দেখতে যাবেন। আমরা কীভাবে প্রোটেকশন নিয়েছি, আপনারা ওখানে গেলে দেখতে পারবেন। প্রতিটা ডিপার্টমেন্ট, যে ডিপার্টমেন্টগুলোর সঙ্গে এই খেলা জড়িত, তাদের সবার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মঈনউদ্দিন বলেন, ‘সিসিডিএম হলো খেলাটাকে অর্গানাইজ করার জন্য।
বয়স জালিয়াতি ছাড়াও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটে ম্যাচ পাতানো, ইচ্ছা করে হেরে যাওয়া বা পক্ষপাতমূলক আম্পারিংয়ের মতো নানা বিতর্কিত ঘটনার অভিযোগ ওঠে। এসব রোধে কঠোর নজরদারির কথা উল্লেখ করে সিসিডিএম চেয়ারম্যান বলেন, আম্পায়াররাও বিষয়টি নিয়ে খুবই সিরিয়াস এবং এ ব্যাপারে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দুটি ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও পারটেক্স ইউনিয়ন ক্লাব কর্তৃক ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পরিশোধ না করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সিসিডিএম মূলত খেলা আয়োজনের দায়িত্বে থাকে। কোনো ক্লাব খেলোয়াড়দের পাওনা পরিশোধ না করলে তাদের কাছে অভিযোগ এলে সিসিডিএম সর্বোচ্চ ক্লাবগুলোকে সতর্ক করতে পারে বা অনুরোধ জানাতে পারে। তবে ক্লাবের অধীনে খেলা খেলোয়াড়দের বেতন পরিশোধের বিষয়ে এর চেয়ে বেশি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সিসিডিএমের নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেন।






