
ভবিষ্যতে যেকোনো অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের প্রেরণা জনগণকে একতাবদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি মন্তব্য করেন, এই চেতনা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করার অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করবে। আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার নয়াপল্টনে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির এক প্রস্তুতিমূলক যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় জীবনের এই বিশেষ দিনের তাৎপর্য তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ নভেম্বর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি অধ্যায়। একদা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছিল। তৎকালীন সময়ে তৈরি হওয়া সেই সংশয় কাটিয়ে উঠে সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে পুনরুদ্বারের দিশা দেখিয়েছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা। তখনকার রাজনৈতিক পরিবেশ, বাকশাল শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ধারাবাহিক সহিংস ঘটনাপ্রবাহের কারণে সাধারণ মানুষের মনে ইতিবাচক পরিবর্তনের তীব্র আকাক্সক্ষা জাগ্রত হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে সাধারণ জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা একসঙ্গে অংশ নিয়ে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ঘটায়। সাধারণ মানুষ ও সেনাসদস্যদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সংঘটিত হয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের পরই দেশের রাজনীতিতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ ঘটে। একই সঙ্গে নাগরিকদের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা এবং সকল রাজনৈতিক দলের জন্য মুক্ত পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্র পুনর্প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে ভবিষ্যতে কেউ যদি অগণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের ওপর কর্তৃত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে ৭ নভেম্বরের চেতনা আবারও দেশের মানুষকে এক কাতারে নিয়ে আসবে এবং গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করবে। ৭ নভেম্বরের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।’’।
প্রস্তুতিমূলক এই যৌথসভায় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এবং সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক থেকে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের রাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে বিস্তর আলোচনার পাশাপাশি কেন্দ্র থেকে শুরু করে একদম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত দলীয় নানা কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের বিভিন্ন কৌশল ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০