বিশ্বের অন্যতম রূপসী ও জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ৫৪ বছরে পদার্পণ করছেন। ১৯৭৩ সালের ১ নভেম্বর কর্নাটকের ম্যাঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণ করা এই ‘পদ্মশ্রী’ বিজয়ী ১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট জয় করেন। তার ক্যারিয়ারের বর্ণিল যাত্রার এমন ছয়টি অধ্যায় রয়েছে যা অনেক ভক্তের কাছেই অজানা। ১৯৯৪ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ খেতাব অর্জন করেন এই অভিনেত্রী। ১৯৭৩ সালের ১ নভেম্বর কর্নাটকের ম্যাঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণ করেন ঐশ্বরিয়া। ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী ৫৩ পূর্ণ করে ৫৪ বছরে পা দিতে যাচ্ছেন। নীল নয়না ঐশ্বরিয়ায় মুগ্ধ হননি এমন মানুষ পাওয়া মুশকিল। বিশেষ এই দিনে চলুন জেনে নিই, ঐশ্বরিয়ার জানা-অজানা ছয় অধ্যায়।
নেদারল্যান্ডসের এক অনন্য সম্মানের নাম ঐশ্বরিয়া। ২০০৫ সালে দেশটির সফরের সময় তার চিরন্তন সৌন্দর্য ও আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার একটি বিশেষ সংকর প্রজাতির টিউলিপ ফুলের নামকরণ করে ‘ঐশ্বরিয়া’। লিসে শহরের কিউকেনহফ গার্ডেনে এই ফুলটি দেখা যায়।
বলিউডের ইতিহাসে শাহরুখ খানের সাথে ঐশ্বরিয়ার রসায়ন বেশ বৈচিত্র্যময়। ২০০০ সালে ‘জোশ’ সিনেমায় তিনি শাহরুখের বোনের ভূমিকায় অভিনয় করেন। একই বছর ‘মোহাব্বতে’ এবং ২০০২ সালের ‘দেবদাস’ সিনেমায় তিনি শাহরুখের প্রেমিকা হিসেবে পর্দায় হাজির হন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে একই নায়কের বোন ও প্রেমিকা দুই চরিত্রেই অভিনয় করার বিরল নজির একমাত্র তারই রয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর নারীদের একজন হিসেবে মনে করা হয় তাকে।
সাহিত্যিক জেন অস্টিনের উপন্যাস নিয়ে নির্মিত সিনেমায় দুইবার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা একমাত্র ভারতীয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া। ২০০০ সালের তামিল সিনেমা ‘কান্ডুকোন্ডান কান্ডুকোন্ডান’ নির্মিত হয়েছে ‘সেন্স অ্যান্ড সেন্সিবিলিটি’ অবলম্বনে। এতে তিনি মীনু চরিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়া ২০০৪ সালে ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ উপন্যাস থেকে নির্মিত সিনেমায় তিনি এলিজাবেথ বেনেটের আদলে তৈরি ‘ললিতা বক্সী’ চরিত্রে অভিনয় করেন। জেন অস্টিনের লেখা ‘সেন্স অ্যান্ড সেন্সিবিলিটি’ উপন্যাস ১৮১১ সালে প্রকাশিত হয়। জেন অস্টিনের লেখা ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ উপন্যাস ১৮১৩ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ২০০৪ সালে মুক্তি পায়। উপন্যাসের ‘এলিজাবেথ বেনেট’ চরিত্রের আদলেই তৈরি হয় এই চরিত্রও।
আন্তর্জাতিক টক শো ‘দ্য অপরাহ উইনফ্রে’-তে প্রথম ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় অভিনেত্রী হিসেবে যোগ দিয়ে ইতিহাস গড়েন ঐশ্বরিয়া। ২০০৫ সালে ‘উইমেন অ্যাক্রস দ্য গ্লোব’ পর্বে তিনি ভারতীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং অপরাহকে শাড়ি পরিয়ে দেন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে স্বামী অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো তিনি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন। এমনকি, অপরাহ উইনফ্রেকে গোলাপি রঙের একটি শাড়িও পরিয়ে দেন এই অভিনেত্রী।
হলিউডের কিংবদন্তি মেরিল স্ট্রিপের সঙ্গে একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কৃতিত্বও তার ঝুলিতে। ‘কেওস’ শিরোনামের সেই সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত নির্মিত হয়নি। এছাড়া ব্র্যাড পিটের বিপরীতে ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ’ সিনেমার প্রস্তাব পেয়েও তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ওই সিনেমায় থাকা কিছু ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ও চুম্বনের দৃশ্যে অভিনয়ের অস্বস্তি থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
ঐশ্বরিয়ার অভিনয়ের শুরুটা হয় ১৯৯৭ সালে তামিল সিনেমা ‘ইরুবার’-এর মাধ্যমে। একই বছর ‘আউর পেয়ার হো গ্যায়া’ দিয়ে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন তিনি। তবে ব্যবসায়িক সাফল্য পান ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া তামিল সিনেমা ‘জিন্স’-এর মাধ্যমে।
২০০৪ সালে বিশ্বজুড়ে নিজের জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকাকালীন ঐশ্বরিয়াকে নিয়ে প্রায় ১৭ হাজার ফ্যান ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছিল। অসংখ্য ভক্ত নিজের উদ্যোগে এসব সাইট খুললেও, এর মধ্যে মাত্র একটি ওয়েবসাইটকেই অভিনেত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছিলেন। শুধু ভারতীয় ভক্তরাই নন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনুরাগীরাও তার জন্য এসব ওয়েবসাইট তৈরি করেছিলেন।






