পোশাক শিল্প খাতে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা তৈরির পেছনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের একাংশ দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন অভিযোগ করেন। এর আগে পোশাক কারখানার মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যেখানে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, এই সরকার শিল্পবান্ধব ও বিনিয়োগ-বাণিজ্যবান্ধব সরকার। এ সময় সবার সহযোগিতায় কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, বিগত কয়েক দিন ধরে পতিত স্বৈরাচারের দোসররা নিরীহ শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। যারা সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে এবং আগুন জ্বালিয়ে অস্থিরতা তৈরি করছে, তাদের পেছনে থাকা ইন্ধনদাতাদের ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, কিছু অসাধু শিল্প মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে সক্রিয় কিছু লোক এই সহিংসতার মূল হোতা। তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত সহিংস ঘটনা বিগত কয়েক দিনে সংঘটিত হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ যাবত সংঘটিত করার চেষ্টা করছে…সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে, আগুন জ্বালিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা যারা করছে—তাদের পেছনে যারা ইন্ধন দিচ্ছে, তারা চিহ্নিত হয়েছে।’।
শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, মজুরি বোর্ড গত রোববার গঠন করা হয়েছে। আজই বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করে মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করা। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন যেন শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের স্বার্থ বিবেচনা করে সহানুভূতির সঙ্গে মজুরি নির্ধারণ করা হয়। ভয়ের পরিবেশ যেন সাংবাদিকদের নিত্যসঙ্গী। ‘অথবা সম্ভাব্য স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তারা বসবেন, আলাপ-আলোচনা হবে এবং সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যথাসম্ভব তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে ঘোষণা হতে পারে,’ বলেন তিনি।
বাস্তবতার নিরিখে মজুরি নির্ধারিত হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখানে কোনো অসন্তোষের অবকাশ নেই। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দেন যে, যারা আন্দোলনের নামে আইনবিরোধী ও স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে, তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। এরই মধ্যে কিছু ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং তাদের সহিংস কর্মকাণ্ডের অডিও-ভিডিও ক্লিপ ও সচিত্র প্রমাণ সরকারের হাতে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ‘আমরা গতকালকেই সে রকম কিছু ব্যক্তিকে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি এবং তাদের সেই সমস্ত কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ এবং কিছু কিছু প্রমাণ আমরা সংগ্রহ করেছি। নিরাপত্তা শঙ্কায় আল-নাসরের সফরে নেই রোনালদো।
সরকার শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দেশের সমৃদ্ধির জন্য সরকার সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণে সরকার অত্যন্ত সচেতন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং পোশাক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিকেলে শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতার কারণে বিভিন্ন জায়গায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে ৩০ হাজার টাকা নূন্যতম মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা। বিষণ্ণতার নতুন ধরন খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা।
এছাড়া বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের পাশের অনেক কারখানা আজ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।






