নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে ভারত। অভিষেক শর্মার অবিশ্বাস্য ব্যাটিং তান্ডবে কিউইদের হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রানের বড় সংগ্রহ গড়েছিল নিউজিল্যান্ড। কিউইদের হয়ে ড্যারিল মিচেল ৫২ বলে অপরাজিত ৮৯ রান করেন। এছাড়া ফিন অ্যালেন ৪০ ও বেভন জ্যাকবস অপরাজিত ৩৯ রান সংগ্রহ করেন। কিউইদের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচ জিতে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের করে নিল টিম ইন্ডিয়া।
জবাবে ২০০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ভারত শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল। ১৫ বছর বয়সী তরুণ ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী মাত্র ১৮ বলে ৪টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন। তবে মূল চমক দেখিয়েছেন অভিষেক শর্মা। তিনি মাঠের চারদিকে ছড়ি ঘুরিয়ে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ১১৩ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলে আউট হন তিনি। এই ইনিংসে ৯টি চারের পাশাপাশি ১১টি বিশাল ছক্কার মার ছিল। কিউই বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে মাত্র ১৫ বলেই ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে চার-ছক্কার তুফান তুললেন অভিষেক শর্মা।
ম্যাচটিতে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে ভারত। মাত্র ৫ ওভার বা ৩০ বলেই দলীয় শতরান পূর্ণ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুততম দলীয় শতকের মাইলফলক স্পর্শ করেছে তারা। এর আগে ২০২১ সালে সার্বিয়ার বিপক্ষে ৫ ওভার ২ বলে ১০০ রান করেছিল রোমানিয়া। ব্যক্তিগত অর্জনেও এগিয়ে গেছেন অভিষেক। কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে এটি তাঁর ১১তম সেঞ্চুরি। এই সেঞ্চুরির সুবাদে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিকদের তালিকায় তিনি ছাড়িয়ে গেছেন বিরাট কোহলি, ডেভিড ওয়ার্নার ও কুইন্টন ডি কককে, যারা প্রত্যেকে ১০টি করে সেঞ্চুরি নিয়ে এখন তাঁর পেছনে অবস্থান করছেন।
অভিষেক শর্মার বিদায়ের পর সঞ্জু স্যামসন ও শ্রেয়স আইয়াররা বাকি দায়িত্ব সহজেই সম্পন্ন করেন। মাত্র ১৩.২ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ভারত জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। শুরু থেকে বৈভব ও অভিষেকের ১৩৩ রানের উদ্বোধনী জুটি জয়ের পথ প্রশস্ত করে দেয়, যা ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। মাত্র ৭.১ ওভারেই জুটিতে ১৩৩ রান তুলে ফেলেন এই দুই ব্যাটার।






