নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালি গ্রামের বাসিন্দা গোলাম রাব্বানী (৬০) এক বিরল অভিজ্ঞতার জন্ম দিয়েছেন। বিষধর গোখরা সাপের কামড় খাওয়ার পরও দংশনকারী সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় একটি ব্যাগে বন্দি করে চিকিৎসার জন্য তিনি সোজা উপস্থিত হন জেলা হাসপাতালে। সোমবার দুপুরের এই ঘটনায় স্থানীয়রা হতবাক হয়ে পড়েন। সোমবার দুপুরে নড়াইল জেলা হাসপাতালে জ্যান্ত গোখরা সাপটি ব্যাগবন্দী করে নিয়ে হাজির হন গোলাম রাব্বানী (৬০) নামে ওই ব্যক্তি। কিছুক্ষণের চেষ্টায় একপর্যায়ে তিনি সাপটি ধরে ফেলেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গোলাম রাব্বানী তার প্রতিবেশী হান্নান খাঁয়ের বাড়িতে বিষধর একটি গোখরা সাপ ঢোকার খবর পান। তিনি তৎক্ষণাৎ সেখানে উপস্থিত হয়ে সাহসিকতার সঙ্গে সাপটি ধরার চেষ্টা করেন এবং সফলও হন। তবে সাপটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সময় সেটি তাকে ছোবল দেয়। দংশিত অবস্থায় দমে না গিয়ে রাব্বানী সাপটিকে একটি ব্যাগে ভরে দ্রুত নড়াইল জেলা হাসপাতালে চলে আসেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ব্যাগবন্দি সাপটি দেখে সাধারণ রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ভয়ে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শারমিন জানান, হাসপাতালে আসার পর তাকে দ্রুত সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টি-ভেনম দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও যথাযথ তত্ত্বাবধানের ফলে বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসক।
গোলাম রাব্বানী মৃত জাফর মুন্সির ছেলে। সাপের দংশনের শিকার হওয়ার পরও উপস্থিত বুদ্ধিতে সাপটি ধরে হাসপাতালে নিয়ে আসার বিষয়টি এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল, তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ও বিপদমুক্ত রয়েছে।






