ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন দুই টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। চোটের কারণে পুরোপুরি ফিট না হলেও উইকেটকিপার ব্যাটার লিটন কুমার দাসকে রাখা হয়েছে ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে। তবে মাঠে নামার আগে তাকে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। যদি শেষ পর্যন্ত তিনি খেলতে না পারেন, তবে তরুণ উইকেটকিপার অমিত হাসানকে বিকল্প হিসেবে ভাবছেন নির্বাচকরা। আগামী ২৮শে অক্টোবর মিরপুরে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট এবং ৫ই নভেম্বর সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ম্যাচ। উল্লেখ্য, আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে লিটন চোট পেয়ে দেশে ফিরেছিলেন, যদিও স্ক্যান রিপোর্টে বড় কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। লিটনের ফিটনেস নিয়ে সামান্য অনিশ্চয়তা থাকলেও আমরা আশাবাদী, সে সুস্থ হয়ে উঠবে। আগস্টে বোলিং শুরু করলেও আবার অস্বস্তি দেখা দেয়।
জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানান, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্কোয়াডে খুব বেশি পরিবর্তন আনা হয়নি। অন্যদিকে, পেসার নাহিদ রানা চোটের কারণে এই সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন। জিম্বাবুয়ে সফরে পাওয়া চোটের কারণে পুনর্বাসনে থাকা এই পেসারকে চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়া পাঠানো হয়েছিল। বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানিয়েছেন, বোলিংয়ে ফিরতে রানার আরও আট সপ্তাহ প্রয়োজন। তার অনুপস্থিতিকে দলের জন্য বড় ক্ষতি বলে অভিহিত করেছেন হাবিবুল বাশার। তবে তাসকিন আহমেদ দলে ফিরেছেন এবং পেস আক্রমণে ইবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলামের ওপর আস্থা রাখছেন নির্বাচকরা। খালেদ আহমেদ দল থেকে বাদ পড়েছেন। গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দলের পরিকল্পনা ও লক্ষ্য তুলে ধরেন জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। আশা করি, এই সিরিজেও সাফল্য ধরে রাখতে পারবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়। তবে অন্য পেসারদের ওপরও আস্থা রয়েছে নির্বাচকদের। সে দলে এক্স-ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করত।
ব্যাটিং লাইনআপের বিষয়ে হাবিবুল বাশার জানিয়েছেন, ওয়ানডে ফরম্যাটে টপ অর্ডারের ব্যর্থতাই দলের মূল সমস্যা। প্রথম দশ ওভারে দুই-তিনটি উইকেট হারিয়ে ফেলায় মিডল অর্ডারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। এই সমস্যা কাটাতে ওপেনারদের ভালো ভিত গড়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। এছাড়া সৌম্য সরকারকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা করেন, দেশে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট চলমান থাকায় সৌম্যকে স্কোয়াডে বসিয়ে না রেখে ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত ওপেনাররা একাদশে থাকলে সৌম্যর সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল। প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে দুই-তিনটি উইকেট পড়ে গেলে পরের ব্যাটারদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হয়।
প্রথম টেস্টের বাংলাদেশ দল: নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহীম, লিটন কুমার দাস, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলী, মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন ও শরীফুল ইসলাম।






