বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ তার অ্যাকশন এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত হলেও তার নামের পেছনের গল্পটি বেশ অদ্ভুত। ১৯৯০ সালের ২ মার্চ অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ ও আয়েশা শ্রফের সংসারে জন্ম নেন এই তারকা। জন্মের সময় তার নাম রাখা হয়েছিল জয় হেমন্ত শ্রফ। তার বাবা জ্যাকি শ্রফের আসল নাম জয়কিষণ এবং এক চাচার নাম ছিল হেমন্ত, এই দুই নাম মিলিয়েই রাখা হয়েছিল তার নাম। বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে ঘিরে সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা। এর মধ্যেই সামনে এসেছে অভিনেতার নামের পেছনের এক মজার শৈশবের গল্প।
তবে ছোটবেলার একটি বিশেষ অভ্যাসের কারণে শৈশব থেকেই তিনি ‘টাইগার’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ২০১৪ সালের মে মাসে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ছোটবেলায় তার অদ্ভুত এক অভ্যাস ছিল—তিনি মানুষকে কামড়ে দিতেন। নিজের সেই সময়ের কথা স্মরণ করে টাইগার বলেন, “ছোটবেলায় আমি কামড়াতাম, আশপাশের সবাইকে কামড়ে দিতাম।” প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছিলেন, “এটা তো দারুণ! ”।
স্নেহ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবেই তিনি এমনটা করতেন বলে জানান। টাইগার বলেন, “মানুষকে অভিবাদন জানানোর সময় স্নেহ প্রকাশের এটাই ছিল আমার উপায়।” এই অভ্যাসের কারণে এক পর্যায়ে তাকে বিপদেও পড়তে হয়। স্কুলে পড়ার সময় তিনি তার এক শিক্ষককে কামড়ে দিয়েছিলেন, যার জন্য তাকে শাস্তিও পেতে হয়েছিল। স্কুলে একবার নিজের শিক্ষককেও কামড়ে দিয়েছিলেন টাইগার।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে অক্ষয় কুমারের সঙ্গে ‘বড়ে মিয়াঁ ছোটে মিয়াঁ’ সিনেমার প্রচারের সময় কার্লি টেলস ইউটিউব চ্যানেলেও তিনি এই গল্পটি পুনরায় শোনান। এ সময় অক্ষয় কুমার তার কথা শুনে মজা পেয়েছিলেন। টাইগার বলেন, “ছোটবেলা থেকেই সবাই আমাকে টাইগার বলে ডাকত, এভাবেই নামটি স্থায়ী হয়ে যায় এবং সিনেমার জগতেও আমি আনুষ্ঠানিকভাবে এই নামটিই গ্রহণ করি।”
২০১৪ সালে কৃতি শ্যাননের বিপরীতে ‘হিরোপান্তি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় টাইগার শ্রফের। এক দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘বাঘি ফ্র্যাঞ্চাইজি’, ‘ওয়ার’ ও ‘হিরোপান্তি’র মতো ব্যবসাসফল সিনেমা। বর্তমানে তার হাতে রয়েছে জাহ্নবী কাপুরের সঙ্গে ‘লাগ যা গালে’, ‘র্যাম্বো’ এবং বিদ্যুৎ জামওয়ালের সঙ্গে একটি অ্যাকশনধর্মী সিনেমার কাজ।
অ্যাকশনধর্মী সিনেমা, দুর্দান্ত নাচ এবং মার্শাল আর্টের দক্ষতার জন্য তিনি বলিউডে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেছেন। ছোটবেলার সেই কামড়ে দেওয়ার অভ্যাসটি এখন কেবলই একটি মজার স্মৃতি হয়ে থাকলেও, ‘টাইগার’ নামটি এখন তার পরিচয়ের প্রধান অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।






