অব্যাহত চোটের কারণে ভারতীয় দলের তারকা পেসার জসপ্রিত বুমরাহর ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট বা কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণ এখন ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দলের সাবেক প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রী মনে করেন, আসন্ন বিশ্বকাপ ও টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে বুমরাহকে সব ফরম্যাটে খেলানো মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। সনি স্পোর্টসের সাথে আলাপকালে ৬৪ বছর বয়সী শাস্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বুমরাহকে মূলত টেস্ট ক্রিকেটে ধরে রাখা প্রয়োজন, যেখানে মাঝে মাঝে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তাকে ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড সফরের দুটি টেস্ট ম্যাচের জন্য বুমরাহকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখাটাই টিম ম্যানেজমেন্টের বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি মত দিয়েছেন।
অবশ্য নির্বাচক কমিটি ও টিম ম্যানেজমেন্ট এরই মধ্যে শাস্ত্রীর এই পরামর্শের পথে হেঁটেছে। আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফরে বুমরাহকে কেবল সাদা পোশাকে লাল বলের ক্রিকেটের জন্য বিবেচনা করা হয়েছে। এই সফরেই দলে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে ৩৬ বছর বয়সী অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমারের। আসন্ন ২২শে অক্টোবর থেকে দুই দলের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে। এরপর ৪ঠা নভেম্বর থেকে অনুষ্ঠিত হবে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। সফরের চূড়ান্ত সূচি অনুযায়ী, সবশেষ দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি চলবে ১৯শে নভেম্বর থেকে ১লা ডিসেম্বর পর্যন্ত।
পুরো সফরটি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন রবি শাস্ত্রী। তার মতে, এই সিরিজ থেকে বোঝা যাবে ভারতীয় ক্রিকেট কোন দিকে এগোচ্ছে। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের পিচ দক্ষিণ আফ্রিকার মতো আচরণ করতে পারে, যা দলের খেলোয়াড়দের আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখবে। ভুবনেশ্বর কুমারের দলে ফেরার বিষয়ে শাস্ত্রী বলেন, তার মতো অভিজ্ঞ বোলার যখন দলে আছেন, তখন তাকে নির্বাচন করার কারণ নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠার অবকাশ নেই। আইপিএল ও ভারতের হয়ে সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনা করলে নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে ভুবনেশ্বর দলের জন্য আদর্শ বোলার হিসেবে বিবেচিত হবেন।
অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক টিম সাউদিও মনে করেন সেখানের উইকেট বোলারদের বেশ সহায়তা করবে। সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্কের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বছরের এই সময়ে নিউজিল্যান্ডের পিচগুলোতে বাড়তি বাউন্স ও সাহায্য পাওয়া যায়, যা উপমহাদেশীয় পিচগুলো থেকে একেবারেই আলাদা। তাই সাউদির মতে, নিউজিল্যান্ডের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়াটা সফরকারী দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জের বিষয় হবে।






