অস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল।
এর আগে, গত রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে। মূলত ১৭ অক্টোবর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাক হোসেন ও তাঁর সঙ্গীদের মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সরকার ও বিএনপি উভয় মহলেই অস্বস্তি সৃষ্টি হয়। নেতা–কর্মীদের কারও কারও হাতে ফুলের তোড়াও দেখা যায়। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে অতিরঞ্জিত প্রচারণা করা হয়েছে।’। গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী।
সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ইশরাক নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি জানান।
তিনি বেলা দুইটায় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার ঘোষণা দেন।
পূর্ব নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই শত শত নেতা–কর্মীর উপস্থিতিতে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে পৌঁছান ইশরাক। এ সময় অনুসারীরা তাঁর পক্ষে ‘ইশরাক ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ এবং ‘ইশরাক ভাই এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’ স্লোগান দেন। প্রেসক্লাবে আসার পর নেতা–কর্মীরা ইশরাক হোসেনের পক্ষে নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
বেলা পৌনে দুইটার দিকে কালো রঙের গাড়িতে করে প্রেসক্লাবে প্রবেশ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক দাবি করেন, গেন্ডারিয়ার ওই ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল মাদকের সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া। তিনি বলেন, ‘আমি চাঁদাবাজি করতে যাইনি, বরং মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলাম। বিষয়টিকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এতে আমার দল বিব্রত হয়েছে।’ হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টার ফলে দল বিব্রত হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা তাঁকে নিয়ে সমালোচনা করছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাস করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে আন্দোলনের প্রয়োজন হলে তাঁরা জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আন্দোলনে যোগ দেবেন।’
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, প্রতিমন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ বিএনপি কর্মী হিসেবে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি আরও বলেন, দেশজুড়ে প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফরে যাওয়ার পাশাপাশি নিজের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার করবেন। ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশা আল্লাহ।
ঘটনার দিন গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান চালানোর বিষয়টি আংশিক সত্য স্বীকার করলেও, তিনি একে ‘অতিরিঞ্জিত কল্পকাহিনী’ হিসেবে দাবি করেন। সরকার ও দলের ভেতরে তৈরি হওয়া অস্বস্তির পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁকে এই পদত্যাগ করতে হলো বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।






