খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে প্রাণ হারাল ১২ বছরের শিশু তামিম। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়ীয়া বাজারসংলগ্ন পদ্মা নদীর ঘাটে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত তামিম লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌর এলাকার বীরোপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিঠুন আলীর ছেলে। সে স্থানীয় বীরোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং তিন ভাইবোনের মধ্যে মেজ ছিল।
ঘটনার বিবরণ
- পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গত রোববার তামিম খালার বাড়িতে বেড়াতে আসে এবং সোমবার দুপুরে খালাতো ভাই সিয়ামের সঙ্গে বিলমাড়ীয়া বাজারসংলগ্ন পদ্মা নদীর ঘাটে গোসল করতে যায়।
- দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘাট থেকে নদীতে লাফ দিলে তামিম গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় খালাতো ভাই সিয়াম ও ঘাটে উপস্থিত লোকজন চিৎকার করে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর খালার বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়রা মিলে বেলা ১টার দিকে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
- খবর পেয়ে লালপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার লতিফুল বারীর নেতৃত্বে একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারীদের সহায়তায় শিশুটিকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তামিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
আইনি ব্যবস্থা
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়া এ ঘটনায় লালপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুরো এলাকায় এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধার তৎপরতায় স্থানীয়দের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে দুর্ভাগ্যবশত শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসক জানিয়েছেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।






