সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০৯ জন। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও রয়েছেন দুজন বাংলাদেশি, একজন মার্কিন, একজন মিশরীয়, একজন জর্ডানীয়, একজন সিরীয়, একজন ফিলিস্তিনি এবং একজন সুদানি নাগরিক। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশিসহ নিহত ১২, আহত ৩০৯। চোখের সামনেই অনেককে আহত হতে দেখেছি।
কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্যমতে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা এই হামলা চালিয়েছে। গত জুলাই মাসে ইয়েমেনের রিয়াদ-সমর্থিত সরকারের সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ সাধারণত বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম প্রকাশ করে না, তবে গোয়েন্দা তথ্য ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন থেকে হুতিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। এক পরিবারের ৮ প্রতিষ্ঠান ও সরকারের ১২০০ কোটি টাকা ‘লুটপাট’। ‘তেলাপোকা’ ঠেকাতে দিল্লি হলো ‘লালকিল্লা’, ভারত হলো ‘কাশ্মীর’। ধানখেতে মরদেহ / স্কুলশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার স্বীকারোক্তি অটোরিকশাচালকের। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি জানানো হয়েছে।
কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই হামলার পর সেখানকার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে। ভয়াবহ জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে রেকর্ড সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে তলব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিকদের বিমানবন্দর এলাকা এড়িয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের মতে, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এক যাত্রী জানান, তিনি ৪০৩ নম্বর গেটে অবস্থানকালে ৪০১ নম্বর গেটে আঘাত হানতে দেখেন। চোখের সামনে অনেকের হতাহত হওয়ার ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত আতঙ্কজনক।
আহতদের মধ্যে মক্কায় গমনেচ্ছুক বেশ কয়েকজন হজযাত্রী রয়েছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তু আঘাত করেছে। রোববার ভোরে জোট কর্তৃপক্ষ রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে। এর আগে বৃহস্পতিবারও হুতিরা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করেছিল, যাতে তিনজন নিহত এবং একটি বিমানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তবে শনিবারের এই বড় হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি।
ইয়েমেনের পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে এবং হুতিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষ চলছে। এর আগে সৌদি আরামকোতে হুতি হামলায় বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল, যা নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিন্দা জানিয়েছিল। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মক্কা জোট সক্রিয় হচ্ছে এবং তুরস্ক ও পাকিস্তান সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। হুতিদের হটিয়ে মোখা বন্দর পুনর্দখলেরও দাবি করেছে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী। যুদ্ধক্ষেত্রে হুতিদের সঙ্গে ‘তীব্র লড়াই’ চলছে: ইয়েমেন সরকার।






