ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা প্রধান অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রবিবার দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর তাদের এই মুক্তি মেলে। তবে মুক্তির শর্ত হিসেবে তাদের আগামী এক বছর কোনো প্রকার শান্তি ভঙ্গ না করার মুচলেকা দিতে হয়েছে। মুক্তির পর সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, আজ দুপুর দুইটায় তারা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করবেন। হিন্দুস্তান টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে, মুক্তির পর সিজিপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তাঁরা আজ রোববার বেলা দুইটায় সংবাদ সম্মেলন করবেন। আজ রোববার একাধিক সংগঠন সিইসিবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে শনিবার বেঙ্গালুরু থেকে মুম্বাই হয়ে দিল্লি পৌঁছানোর পরপরই এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজের ভেতর থেকে এই তিন নেতাকে আটক করেছিল পুলিশ। সে সময় পুলিশ দিপকেকে তাঁর দাদির মৃত্যুসংবাদ জানিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সিজেপির আন্দোলনের সমন্বয়ক অজিঙ্ক শিন্ডে স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
ভারতের বিতর্কিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি আজ রবিবার নতুন করে বিক্ষোভ ও যন্তর মন্তরের দিকে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে। গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া পোস্টে দলটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা পিছু হটছে না এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে। আমরা আগামীকাল (রোববার) আবার যন্তর মন্তরের দিকে পদযাত্রা করব এবং আমাদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করব।’। সিজেপি গতকাল শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয়।
এদিকে সিজেপির বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। গত শনিবার পুলিশ প্রায় সাত হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করেছে। যাদের মধ্যে চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, মমতা ব্যানার্জি, অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মানিক সরকারও রয়েছেন। বিভিন্ন তরুণ ও ছাত্র নেতাদের আটকের পাশাপাশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা, রেল পরিষেবা বিঘ্নিত করা এবং ইন্টারনেট বন্ধসহ নানা কৌশলী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী দিল্লিতেই কেবল পুলিশ সাত হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে।
এত কঠোর নিরাপত্তা ও বিধিনিষেধ সত্ত্বেও রাজধানীর আইটিও, সাফদারজং ফ্লাইওভার এবং দিল্লি হাটের মতো বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রবিবার দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ বেশ কিছু রাস্তায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সকাল ছয়টা থেকে নগরীর প্রায় ৩০টি পয়েন্টে ডাইভারশন কার্যকর করা হয়েছে। প্রশাসনের বিপুল পুলিশ মোতায়েন ও ধরপাকড় সত্ত্বেও তরুণ আন্দোলনকারীরা তাদের অবস্থানে অনড় থেকে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।






