ভারতীয় টেলিভিশনের পরিচিত মুখ বিজয়েন্দ্র কুমেরিয়া সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিজীবন নিয়ে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙেছেন। ‘শাস্ত্রী সিস্টার্স’, ‘উড়ান’, ‘নাগিন ৪’ ও ‘তেরি মেরি ডোরিয়াঁ’-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতা জানিয়েছেন, স্ত্রী প্রীতি ভাটিয়ার সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটেছে। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তাঁরা এবং ২০১৬ সালের অক্টোবরে এই দম্পতির সংসারে জন্ম নেয় কন্যা কিমায়া। কী ঘটেছে, সেটি মেনে নিতেও তাঁর সময় লেগেছে।
টেলি টক ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিজয়েন্দ্র জানান, হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত তাঁরা নেননি। দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও মানিয়ে নেওয়ার সমস্যার কারণে তাঁরা আলাদা হওয়ার পথ বেছে নেন। অভিনেতা বলেন, সম্পর্কের এই ভাঙন এক রাতের বিষয় নয়। সময়ের সাথে মতপার্থক্য বাড়তে থাকায় দুজনই উপলব্ধি করেছিলেন যে সম্পর্কটি আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। উভয়ের সম্মতিতে ২০২২ সালে তাঁরা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালে তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। গোপন বিয়ে, রহস্যময় পোস্ট এবং বিচ্ছেদ—পাঁচ মাসেই কেন ভাঙল বাদশাহ-ইশার সংসার। অভিনেতা বলেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত এক রাতে নেওয়া হয় না। আমাদের মধ্যে অনেক মতপার্থক্য ও মানিয়ে নেওয়ার সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা আমরা করিনি, এমন নয়। তবে পরে বুঝেছেন, আলাদা থাকাই সবার জন্য ভালো।
এতদিন বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনার কারণ হিসেবে বিজয়েন্দ্র জানান, তিনি বরাবরই নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন। এছাড়া নিজেরাও এই পরিস্থিতি মেনে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন বোধ করেছিলেন। তবে সম্প্রতি তাঁর মনে হয়েছে, মানুষের ধারণার ওপর বিষয়টি ছেড়ে না দিয়ে নিজের মুখেই প্রকৃত সত্যটি প্রকাশ করা প্রয়োজন। তবে এত বছর পর মনে হয়েছে, অন্যের অনুমানের ওপর বিষয়টি ছেড়ে না দিয়ে নিজেই সত্যিটা জানানো উচিত।
সন্তান কিমায়ার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তাঁরা এতদিন সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরা বুঝতে পারেন, একটি অসুখী পরিবেশে সন্তানকে বড় করার চেয়ে দুজন আলাদাভাবে বাবা-মায়ের ভালোবাসা দেওয়া বেশি জরুরি। বর্তমানে বিচ্ছেদের পরও বিজয়েন্দ্র ও প্রীতি দুজন মিলেই কিমায়াকে বড় করে তুলছেন। বিজয়েন্দ্র বর্তমানে ‘জুহি মুই’ ধারাবাহিকে ইশা সিংয়ের বিপরীতে অভিনয় করছেন।


