ভারতীয় বাংলা সংগীতজগতের প্রবীণ ও বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী বিভা সেনগুপ্ত আর নেই। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ৯৪ বছর বয়সী এই শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তার প্রয়াণে কলকাতার সংগীত ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শিল্পীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সংগীতশিল্পী অলক রায়চৌধুরী জানান, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ‘লোকভারতী’ সংস্থার পক্ষ থেকে শিল্পীর বাড়িতে গিয়ে তাকে সংবর্ধনা জানানো হয়। সে সময় বিভা সেনগুপ্ত অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত ছিলেন এবং তার সঙ্গে অনেক আলাপচারিতা হয়েছিল। অলক আরও উল্লেখ করেন যে, সেই সময় বিভা অনেকটা আড়ালেই থেকে গিয়েছিলেন। ষাট ও সত্তর দশকে যখন সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা নীলিমা সেনের মতো শিল্পীরা খ্যাতির শীর্ষে ছিলেন, তখন বিভা নিজের মতো করেই গান গেয়ে গেছেন। তিনি কখনো প্রচারের আলোয় থাকার প্রতিযোগিতায় জড়াননি।
মূলত ত্রিপুরার বাসিন্দা বিভা সেনগুপ্ত ১৯৫৯ সালে কাজের প্রয়োজনে কলকাতায় স্থায়ী হন। সংগীতের দীক্ষা নিয়েছেন মায়া সেনের কাছে। পরবর্তীতে মায়া সেন তাকে পরিচয় করিয়ে দেন দেবব্রত বিশ্বাসের সঙ্গে। দেবব্রত বিশ্বাস বিভার কণ্ঠের অনুরাগী ছিলেন এবং তার কাছ থেকেই শিল্পী দীর্ঘ সময় গান শিখেছেন। ১৯৫৯ সালে কলকাতায় পাড়ি জমান।
আকাশবাণী কলকাতা ও দূরদর্শনের শুরুর দিক থেকেই বিভা সেনগুপ্ত নিয়মিত রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। রবীন্দ্রসংগীতের বিশুদ্ধতা রক্ষা, স্পষ্ট উচ্চারণ এবং নিজস্ব গায়কী তাকে সংগীতপ্রেমীদের কাছে অনন্য করে তুলেছিল। তার দীর্ঘ সংগীতসাধনা ও নিভৃতচারী জীবন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য আজীবন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তার জীবনব্যাপী এই সংগীতসাধনা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে। Do Not Sell or Share My Personal Information। We won’t sell or share your personal information to inform the ads you see। You may still see interest-based ads if your information is sold or shared by other companies or was sold or shared previously।


