ডারউইনে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারের পর অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে শুরু হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়। এই হারের রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে ওপেনার জেইক ওয়েদারল্ডকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তার পরিবর্তে অভিজ্ঞ ম্যাট রেনশোকে দলে ফেরানো হয়েছে, তবে এই পরিবর্তন নিয়ে সাবেক অসি অলরাউন্ডার ও ধারাভাষ্যকার ব্র্যান্ডন জুলিয়ান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তার মতে, ওয়েদারল্ডের ওপর এই সিদ্ধান্তটি বেশ নিষ্ঠুর হয়েছে।
প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে ২৩ ও ০ রান করা ওয়েদারল্ডকে ছাঁটাই করার বিষয়টি বিস্ময়কর বলে মনে করছেন জুলিয়ান। বিশেষ করে হেড কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের আগের বক্তব্যের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের কোনো মিল নেই। ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছিলেন, তাড়াহুড়ো করে একাদশে কোনো আবেগীয় পরিবর্তন আনা হবে না। অথচ সেই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওয়েদারল্ডকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। জুলিয়ানের মতে, ডারউইনের উইকেটে প্রথম ইনিংসে পেসাররা যে সুইং ও সিম মুভমেন্ট পাচ্ছিলেন, তাতে কেবল ওয়েদারল্ড নয়, পুরো টপ অর্ডারই সংগ্রাম করেছে। তাই তাকে অন্তত আরও একটি সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।
৩০ বছর বয়সী ম্যাট রেনশোর জন্য এটি টেস্ট দলে চতুর্থবারের মতো প্রত্যাবর্তন। শেফিল্ড শিল্ডে ৪৯.৯ গড়ে তিনটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলে জায়গা করে নিলেও, ট্র্যাভিস হেডের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামতে যাওয়া রেনশোকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন জুলিয়ান। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, রেনশোর জন্য এটি একটি “ডু অর ডাই” ম্যাচ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে তার আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ারের পথ এখানেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
দল নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি মারনাস লাবুশানের ফর্ম নিয়েও শঙ্কা বাড়ছে। তিন নম্বরে ব্যাট করা লাবুশানের সাম্প্রতিক টেস্ট গড় ২৬-এর ঘরে নেমে এসেছে। ম্যাকাওয়েতে আসন্ন ম্যাচে রান না পেলে অক্টোবরের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলে তার জায়গা পাওয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সিরিজে সমতা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে ম্যাকাওয়েতে নামলেও, আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ পেস আক্রমণের সামনে অসি ব্যাটারদের জন্য এই অগ্নিপরীক্ষা মোটেও সহজ হবে না।






