১৯৫০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন রুপালি পর্দার স্টাইলিশ ও রোমান্টিক নায়ক জাফর ইকবাল। ক্যারিয়ারে প্রায় ১৫০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মাস্তান’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি ‘ড্যাশিং’ নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। তবে অভিনয়ের বাইরেও সংগীত ছিল তার সত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে এসি বাসের ভাড়া, যে কারণে ব্যবস্থা নিতে পারছে না বিআরটিএ। মাহফুজ আনামের কলাম / গণমাধ্যমকে সীমাবদ্ধ করবে খসড়া সাইবার আইন। গিটার বাজিয়ে গান গাইতেন, ব্যান্ডও করেছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধ / জাফর ইকবাল-মাকসুদ কামালসহ ৫ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
পরিবার থেকেই তিনি সংগীতের আবহ পেয়েছিলেন। বড় বোন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী শাহনাজ রহমত উল্লাহ এবং বড় ভাই সংগীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজের অনুপ্রেরণায় ছোটবেলা থেকেই গানে আগ্রহী ছিলেন তিনি। বাড়িতে গানের আসর বসলে বোনের সঙ্গে নিয়মিত তবলা বাজাতেন জাফর ইকবাল। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘রোলিং স্টোন’ নামে একটি ব্যান্ড দল। প্রিয় শিল্পী এলভিস প্রিসলির গান ও গায়কী তাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল। এশিয়ান গেমসে আফগানিস্তানকে হারিয়ে নেপালের চমক। সংগীতের প্রতি তার আগ্রহ অবশ্য আরও আগে থেকেই।
১৯৬৯ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আপন পর’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় জাফর ইকবালের অভিষেক ঘটে। এরপর দীর্ঘ সময় অভিনয়ের ব্যস্ততার মাঝেও সংগীত ছাড়েননি তিনি। চলচ্চিত্রে আসার নয় বছর পর ১৯৭৮ সালে প্রথমবারের মতো প্লেব্যাক করেন তিনি। দারশিকো পরিচালিত ‘ফকির মজনু শাহ’ সিনেমায় রুনা লায়লার সঙ্গে তার গাওয়া ‘প্রেমের আগুনে জ্বলে গেলাম সজনী গো’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। গানটির গীতিকার ছিলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার এবং সুর করেছিলেন আলাউদ্দীন আলী। বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হচ্ছে ফারহানের।
এরপর ১৯৮৪ সালে নায়করাজ রাজ্জাকের পরিচালনায় ‘বদনাম’ সিনেমায় দ্বিতীয়বারের মতো প্লেব্যাক করেন এই অভিনেতা। ‘হয় যদি বদনাম হোক, আরও আমি তো এখন আর নই কারো’ গানটির সুর করেছিলেন আনোয়ার পারভেজ। পরবর্তীতে আধুনিক গানের জগতেও নিজের ছাপ রেখেছেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে তিনি ‘এক হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের দাম কি আছে’ গানটি পরিবেশন করেছিলেন। এছাড়া আশির দশকে ‘কেন তুমি কাঁদালে’ নামে তার একটি একক অডিও অ্যালবামও প্রকাশিত হয়।
অভিনয় জীবনে ‘অবুঝ হৃদয়’, ‘ভাই বন্ধু’, ‘নয়নের আলো’, ‘অবদান’, ‘প্রেমিক’, ‘সাধারণ মেয়ে’, ‘দিনের পর দিন’, ‘বেদ্বীন’, ‘অংশীদার’, ‘মেঘ বিজলী বাদল’, ‘সাত রাজার ধন’, ‘আশীর্বাদ’, ‘অপমান’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘গৃহলক্ষ্মী’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘নবাব’, ‘প্রতিরোধ’, ‘ফুলের মালা’, ‘সিআইডি’, ‘মর্যাদা’, ‘সন্ধি’, ‘বন্ধু আমার’ এবং ‘উসিলা’র মতো অসংখ্য নন্দিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
শিল্পীর জীবনের এই উজ্জ্বল পথচলা থেমে যায় ১৯৯২ সালের ৮ জানুয়ারি। মাত্র ৪১ বছর বয়সে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। তবে অভিনয়ের পাশাপাশি তার গাওয়া হাতে গোনা কয়েকটি প্লেব্যাক গান আজও তার বহুমুখী শিল্পীসত্তার সাক্ষ্য বহন করছে। চলচ্চিত্রে তার প্লেব্যাকের সংখ্যা বেশি নয়, তবে যে কটি গান গেয়েছেন, সেগুলো তার বহুমুখী শিল্পীসত্তার একটি দিক তুলে ধরেছে।


