ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাইমা সেন ছেচল্লিশ বছর বয়সেও অবিবাহিত। সমসাময়িক অনেক তারকা অভিনেত্রী বিয়ে করে সংসারে থিতু হলেও, রাইমা এখনো সিঙ্গেল জীবন উপভোগ করছেন। নিজের বিয়ে না করা এবং সংসার জীবন নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্য ভেঙে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলা আলোচনা করেছেন এই অভিনেত্রী।
বিয়ে না করার বিষয়ে রাইমা জানান, এই বয়সে এসে বিয়ের প্রতি তার তেমন কোনো তাগিদ নেই। বিশেষ করে সম্পর্কের দায়বদ্ধতা বা অ্যাটাচমেন্টের বিষয়টি তাকে কিছুটা চিন্তিত করে। তার বোনও বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই মজা করেন। তবে রাইমা মনে করেন, চল্লিশের পরবর্তী সময়টিই জীবনের প্রকৃত অধ্যায়। এ বয়সে এসে নিজেকে অনেক বেশি স্বাধীন মনে হয় এবং বিশ বা ত্রিশের কোঠার তুলনায় বর্তমান জীবন অনেক বেশি সহজ ও ছন্দময়।
সন্তান ধারণের ইচ্ছা এবং মাতৃত্বের বিষয়ে রাইমা নতুন এক তথ্য শেয়ার করেছেন। তিনি বাচ্চাদের ভীষণ ভালোবাসেন, যদিও সব দায়িত্ব সামলাতে পারবেন কি না তা নিয়ে তার কিছুটা ভয় ছিল। তবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি অনেক আগেই ডিম্বাণু বা এগ ফ্রিজ করে রেখেছেন। রাইমার মতে, কেবল মা হওয়ার জন্য বিয়ের কোনো প্রয়োজন নেই। তার মা মুনমুন সেনও এখন তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন না, বরং দেশ ও পৃথিবীর বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে প্রয়োজনে পোষ্য দত্তক নেওয়ার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য, রাইমা সেন মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের নাতনি এবং মুনমুন সেন ও ভরত দেব ভার্মার কন্যা। ১৯৭৮ সালে সুচিত্রা সেনের উপস্থিতিতে মুনমুন সেনের বিয়ে হয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবনে মুনমুন-ভরত দম্পতির দুই কন্যা রাইমা ও রিয়া সেন দুজনেই অভিনয়ের পথ বেছে নিয়েছেন।
১৯৯৯ সালে বলিউডের ‘গডমাদার’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু করেন রাইমা। তারকা পরিবারের সন্তান হয়েও নিজের অভিনয় দক্ষতা ও সৌন্দর্য দিয়ে দর্শকহৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। তার ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য সিনেমার তালিকায় রয়েছে ‘হাওয়া বদল’, ‘২২শে শ্রাবণ’, ‘মি আমোর’, ‘বাস্তুশাপ’, ‘দ্বিতীয় পুরুষ’ এবং ‘চিত্রাঙ্গদা’-এর মতো দর্শকপ্রিয় সব কাজ।

