নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানবিক সহায়তার অজুহাতে রোহিঙ্গা সংকটের রাজনৈতিক সমাধান থেকে দূরে থাকা যাবে না। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি স্পষ্ট করেন যে, অনির্দিষ্টকাল ধরে রোহিঙ্গাদের ভার বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার এই জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে রোহিঙ্গাদের সফলভাবে প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু ২০১৭ সালের পর পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। বর্তমানে ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘ নয় বছর ধরে এক কঠিন মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। স্থানীয়দের ওপর সামাজিক ও পরিবেশগত যে চাপ বাড়ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানো জরুরি, কিন্তু বাস্তবতা হলো, সহায়তার পরিমাণ বরং হ্রাস পাচ্ছে। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে সহায়তা কমিয়ে ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা উদ্বেগজনক।
মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির দ্বন্দ্ব নিরসন না হওয়ায় নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। এই সংকটের মূলে মিয়ানমারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সংকট সমাধানে তিনি পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন।
প্রথমত, রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে একটি বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধ করে তাদের নিজ ভূমিতে নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক তহবিল নিশ্চিত করা এবং আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানো। চতুর্থত, আইসিজে ও আইসিসির মতো আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন দিয়ে অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা। পঞ্চমত, মাদক, মানবপাচার ও অবৈধ অস্ত্র ঠেকাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও দৃঢ় করা।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত থাকুক। তার মতে, রোহিঙ্গাদের ভাগ্য যেন কেবল নিপীড়নের ইতিহাস না হয়, বরং তা ন্যায়বিচার ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের গল্প হয়ে ওঠে। তিনি এই পরিবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মানবিক সহায়তার উদারতা কখনোই রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এ ইভেন্টের আয়োজন করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মানবিকতার তাগিদেই বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়েছিল এবং তাদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাদানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু দীর্ঘ সময় বসবাসের জন্য শিবিরগুলো কোনো আদর্শ স্থান নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে শুধু রোহিঙ্গাদের নয়, কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত বিপুল চাপ পড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ প্রয়োজন বাড়লেও মানবিক সহায়তার পরিমাণ সংকুচিত হচ্ছে।





