হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে তেহরান নির্ধারিত শর্তসমূহ মেনে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে ইরান। নিউ ইয়র্কে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে উভয় দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমেই এমন কঠোর বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, উল্লেখিত শর্তাবলী পূরণ করা হলে প্রণালিটি পুনরায় চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে প্রস্তুত তারা।
এর আগে দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়, তবে এক সপ্তাহের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ অবমুক্তকরণ এবং তেহরান সমর্থিত বিভিন্ন ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ এলাকায় যুদ্ধের সমাপ্তি টানা।
চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বেশ কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আলোচনায় জ্যারেড কুশনারও যুক্ত ছিলেন। ইরানের দাবি, তারা নতুন কোনো দাবি উত্থাপন করেনি, বরং পূর্বনির্ধারিত শর্তগুলোই আলোচনার টেবিলে পুনর্ব্যক্ত করেছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি ও বাণিজ্যিক রুট হওয়ায় এর স্থবিরতা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি জাহাজ ও কনটেইনারের নিরাপদ চলাচল এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ইরানের সহায়তা কামনা করেন।
উত্তেজনা প্রশমনে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান অক্ষুণ্ণ রেখে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আগ্রহের কথাও জানিয়েছে ঢাকা। বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়টি কেবল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সীমাবদ্ধতায় নেই; বরং এর সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে পড়েছে।






