অফিসিয়াল ও সমসাময়িক খবরাখবর
- প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য: সিফাতের জামিন নামঞ্জুর
- নিউইয়র্ক সফর: সোমবার ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ
- শিল্প খাতে গ্যাসের সরবরাহ: মঙ্গলবার থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফেরার ঘোষণা
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, সহিংসতার অবসান, মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন।
কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান বৈষম্য ও নির্যাতনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশে কয়েক দফায় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৭ সালে সহিংসতার নতুন ঢেউয়ে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে, যাদের মধ্যে প্রতি বছর নতুন করে হাজার হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে। এক দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন প্রজন্ম বেড়ে উঠছে, যা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানবিক বিবেচনায় সীমান্ত খুলে দেওয়া হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চাপ বাড়ছে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর এই সংকটের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। পাশাপাশি মানবপাচার ও মাদক চোরাচালানের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বাড়ছে। সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সহায়তার গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালের জন্য মানবিক সহায়তার লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা কেবল বেঁচে থাকার ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। কিন্তু এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে চলতে পারে না।
রোহিঙ্গা সংকটের মূল মিয়ানমারে নিহিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে এখনো নির্বিচারে আটক, জোরপূর্বক শ্রম ও চলাচলে বিধিনিষেধের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘন চলছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং আরাকান আর্মি—উভয়ের বিরুদ্ধেই অভিযোগ রয়েছে। তিনি মনে করেন, কেবল সহমর্মিতা নয়, বরং রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার ঊর্ধ্বে উঠে কার্যকর পদক্ষেপে আসার এখনই সময়। বাংলাদেশকে দীর্ঘকাল এককভাবে এই দায়ভার বহন করতে দেওয়াটা যৌক্তিক নয় বলে তিনি মনে করেন।
উল্লেখ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও সমসাময়িক ঘটনাবলির মধ্যে রয়েছে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৬৩ টন সিগারেটের কাঁচামাল খালাসে ২,৪৫০ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি, বারিধারার গাড়িচাপা ঘটনায় আটক কিশোরের নাম মামলায় না থাকা এবং ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়ানোর খবর। ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৮৬৬ জন। এদিকে, খেলাধুলা অঙ্গনে রোনালদো ১,০০০ গোলের লক্ষ্যে নিজের ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা প্রস্তাব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৬৩ টন সিগারেটের কাঁচামাল খালাস, ২৪৫০ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আজ মঙ্গলবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ১১ নম্বর কক্ষে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রস্তাব দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনের এ অনুষ্ঠানে সহ-আয়োজক ও অন্যান্য অংশীদারদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা চরম বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৯৮০-এর দশকেও দেশটি রোহিঙ্গাদের কয়েকটি বড় দফার আগমন প্রত্যক্ষ করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তৎকালীন বিভিন্ন সরকারের আমলে কিছু রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ২০১৭ সালে মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতির আরও মারাত্মক অবনতি ঘটে।





