আবারও গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা সরকারের

প্রকাশ:
Print news

তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির নতুন কমিটি, আহ্বায়ক সালাম ও সদস্যসচিব রবিন।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সালিশ ও বিচারকাজ পরিচালনা এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা। সিলেট টেস্ট / ওয়েস্ট ইন্ডিজের আগ্রাসী ব্যাটিং, বাংলাদেশের ২ উইকেট।

ইতোমধ্যে ১৯৮০ সালের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ২০০৩ সালের খালেদা জিয়া সরকারের আমলের আইনের আদলে একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে, যা দ্রুত মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য তোলা হবে বলে স্থানীয় সরকার বিভাগের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। নেতানিয়াহু নয়, সরকার গঠনে আইসেনকটকে বেছে নিলেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট। এ লক্ষ্যে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৮০ সালে এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় ২০০৩ সালের আইনের আলোকে একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। তারা জানান, খসড়াটি শিগগির অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে।

নতুন খসড়া অনুযায়ী ‘গ্রাম সরকার আইন ২০২৬’ প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এই মডেল কার্যকর হলে দেশের ৪ হাজার ৫৬৮টি ইউনিয়নের অধীনে থাকা মোট ৪১ হাজার ১১২টি ওয়ার্ডে ১৭ জন করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে এই গ্রাম সরকার গঠিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বাকি ১৫ জন সদস্যকে ওই ওয়ার্ডের অন্তত ১০ শতাংশ ভোটারের ভোটে নির্বাচিত করার বিধান রাখা হয়েছে। দেশের এলপিজির ৮৫ শতাংশই আসছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান থেকে। গ্রাম এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সালিশ ও বিচারকাজ পরিচালনা ও উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর ‘গ্রাম সরকার’ পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। নতুন করে প্রস্তুত করা খসড়া ‘গ্রাম সরকার আইন ২০২৬’ অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারের এই নতুন মডেলে দেশের ৪ হাজার ৫৬৮টি ইউনিয়নের আওতাধীন ৪১ হাজার ১১২ ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ১৭ জন করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকবেন। বাতিল হওয়া সেই আইনে প্রতি ওয়ার্ডে ১৫ সদস্যের গ্রাম সরকার গঠনের বিধান ছিল, যার সব সদস্য মনোনীত হবেন স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে। এটি গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে, চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় সাহায্য করবে এবং নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিবেদন পাঠাবে। তৃণমূলে থাকা প্রতিনিধিরা যদি এসব কাজ পরিচালনা করেন, তবে এসব ভুল অনেক কমে আসবে এবং মানুষের ভোগান্তি কমবে। ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ পদে পরিবর্তন, দায়িত্ব পাচ্ছেন স্টিফেন মিলার।

প্রস্তাবিত এই কাঠামো অনুযায়ী, গ্রাম সরকার নারী নির্যাতন ও সন্ত্রাস দমনে স্থানীয় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি যাচাই করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দেবে। তবে ১৯৮০ সালের মডেলে সদস্যরা মনোনীত হতেন এবং কোনো ভাতা পেতেন না। নতুন খসড়ায় সম্মানি ভাতার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো উল্লেখ না থাকলেও, সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। এবারের প্রস্তাবিত খসড়া আইনেও দেশব্যাপী প্রায় ৭ লাখ সদস্যের সম্মানি ভাতার বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। তবে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় সম্মানির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে খসড়ার একটি বিশেষ ধারা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ জানিয়েছেন।

প্রস্তাবিত আইনে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদেরও শর্তসাপেক্ষে গ্রাম সরকারের সদস্য হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। যদি এ ধরনের লোকেরা গ্রাম সরকারে ঢোকার সুযোগ পায়, তাহলে সরকারের মূল উদ্দেশ্যই ভেস্তে যেতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।

৯(ঘ) উপধারা অনুযায়ী, কারাদণ্ড ভোগ শেষে মুক্তি পাওয়ার ৫ বছর পার হলে তারা নির্বাচনে লড়তে পারবেন। খসড়ার ৯(ঘ) উপধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে সদস্য পদের জন্য অযোগ্য হবেন। নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কাউকে দণ্ডিত করলে—সরকারি কর্মচারী বা রাজনীতিবিদ যিনিই হোন না কেন—রাষ্ট্রীয় কোনো কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট থাকা উচিত নয়,’ বলেন তিনি।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়ার মতে, যারা সালিশ ও বিচারিক দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের মধ্যে দণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত করা পুরো ব্যবস্থাটির স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।

সারাদেশে একযোগে এই ব্যবস্থা চালু করার পরিবর্তে পরীক্ষামূলকভাবে শুরুর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। জনপ্রশাসন গবেষক আবদুল আউয়াল মজুমদার জানান, অতীতের গ্রাম আদালতগুলোতে স্থানীয় মুরুব্বিদের বড় ভূমিকা ছিল, কিন্তু বর্তমানে সালিশের নামে অনেকক্ষেত্রে অনিয়ম দেখা দেয়। তাই আগে দেশের আট বিভাগের ৫০টি উপজেলায় পাইলটিং করার পর জাতীয়ভাবে বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। সাবেক এই সচিব বলেন, ‘আশির দশকে গ্রাম আদালতে স্থানীয় মুরুব্বিদের মাধ্যমে সালিশ পরিচালিত হতো। অনেকক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে সালিশের কথা শোনা যায়,’ বলেন তিনি। কিন্তু গত দেড় দশকে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। দেশের ৮ বিভাগের অন্তত ৫০ উপজেলায় এটি পাইলটিং করার পর জাতীয়ভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন তিনি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার পরীক্ষামূলক ধাপ ছাড়াই দ্রুত এটি বাস্তবায়নের আগ্রহ দেখাচ্ছে, যদিও এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এলজিডির সিনিয়র সচিব শাহিদুল হাসান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের মতে, এই ব্যবস্থা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবে।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের মতো কাজে গ্রাম সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া গ্রামের খাদ্যের চাহিদা, পুষ্টি ও টিকাদানের তথ্য সংগ্রহে এটি সহায়তা করবে, যা ডেটাবেজে ভুয়া বা দ্বৈত এন্ট্রি প্রতিরোধে কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে চালুর পর এরশাদ সরকারের আমলে এটি বাতিল হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে অনির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিলেও হাইকোর্ট তা অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল। ১৯৮০ সালে চালুর কয়েক বছর পরই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের শাসননামলে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। পরে ২০০৩ সালে অনির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে এই স্থানীয় ব্যবস্থা নতুন করে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও হাইকোর্ট এটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার পর আইনটি বাতিল হয়ে যায়। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থায় অসংখ্য ভুলত্রুটি ও জটিলতা তৈরি হয়।

শেয়ার করুন
শিরোনাম :
শান্তি বিলাসিতা নয়, সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের রক্ষাকবচ: কাতারের প্রধানমন্ত্রী আবারও গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা সরকারের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেল-সড়ক অবরোধ, বাসুদেব ইউনিয়ন পুনর্বহালের দাবিতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দুই ম্যাচের টিকিটের মূল্যে ৫০ শতাংশ ছাড় স্পেন শাসিত হবে দেশ থেকেই, ওয়াশিংটন বা মস্কো থেকে নয়: সানচেজ বিএমইউ হাসপাতালে ১,১১৭ পদে বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ইরানের কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণ, হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে আগুন গাজীপুরে কাজে ফিরেছেন পোশাকশ্রমিকেরা, শিল্পাঞ্চলে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশ পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আহমেদ আজম খান ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন গাদি আইজেনকোট মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে শান্তি চুক্তির আহ্বান কাতারের ভ্যালেন্সিয়াকে হারিয়ে লা লিগায় বার্সেলোনার সঙ্গী হলো রিয়াল মাদ্রিদ মাগুরায় ঐতিহ্যবাহী দিনান্ত ক্লাবের নাম বদলে অফিসার্স ক্লাবের উদ্বোধন এনসিএল: বল হাতে সানজিতের ঝলক, ব্যাট হাতে তাইবুরের সেঞ্চুরি ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় হতাহত বৃদ্ধির অভিযোগ হুথিদের ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকে কাস্টমার সার্ভিস এক্সিকিউটিভ পদে নিয়োগ ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন গাদি আইজেনকট বিয়ের কথা জানিয়ে বরের পরিচয় গোপন রাখলেন পারশা মাহজাবিন গ্রাম পুলিশের বেতন ও ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধের কারণেই নির্বাচনে হেরেছি: জেডি ভ্যান্স শান্তি বিলাসিতা নয়, সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের রক্ষাকবচ: কাতারের প্রধানমন্ত্রী আবারও গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা সরকারের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেল-সড়ক অবরোধ, বাসুদেব ইউনিয়ন পুনর্বহালের দাবিতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দুই ম্যাচের টিকিটের মূল্যে ৫০ শতাংশ ছাড় স্পেন শাসিত হবে দেশ থেকেই, ওয়াশিংটন বা মস্কো থেকে নয়: সানচেজ বিএমইউ হাসপাতালে ১,১১৭ পদে বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ইরানের কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণ, হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে আগুন গাজীপুরে কাজে ফিরেছেন পোশাকশ্রমিকেরা, শিল্পাঞ্চলে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশ পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আহমেদ আজম খান ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন গাদি আইজেনকোট মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে শান্তি চুক্তির আহ্বান কাতারের ভ্যালেন্সিয়াকে হারিয়ে লা লিগায় বার্সেলোনার সঙ্গী হলো রিয়াল মাদ্রিদ মাগুরায় ঐতিহ্যবাহী দিনান্ত ক্লাবের নাম বদলে অফিসার্স ক্লাবের উদ্বোধন এনসিএল: বল হাতে সানজিতের ঝলক, ব্যাট হাতে তাইবুরের সেঞ্চুরি ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় হতাহত বৃদ্ধির অভিযোগ হুথিদের ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকে কাস্টমার সার্ভিস এক্সিকিউটিভ পদে নিয়োগ ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন গাদি আইজেনকট বিয়ের কথা জানিয়ে বরের পরিচয় গোপন রাখলেন পারশা মাহজাবিন গ্রাম পুলিশের বেতন ও ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধের কারণেই নির্বাচনে হেরেছি: জেডি ভ্যান্স