দীর্ঘদিন ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ পেসার মার্ক উড। ৩৬ বছর বয়সী এই তারকার ক্যারিয়ার দীর্ঘ সময় ধরে চোটে জর্জরিত ছিল। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পার্থে অ্যাশেজ টেস্টের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ মাস পর মাঠে ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু মাত্র ১১ ওভার বোলিং করার পরই তার বাঁ হাঁটুতে তীব্র ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দেয়, যার ফলে তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়। সেই চোট থেকে সেরে ওঠার আর সুযোগ হয়নি তার। নিজের অবসরের প্রতিক্রিয়ায় উড জানান, গত এক বছরের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত নয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে এখন আর সম্ভব নয় বলেই তিনি মনে করছেন।
২০১৫ সালে অভিষেকের পর উড ৩৮টি টেস্টে ১১৯ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া ৭০টি ওয়ানডে ম্যাচে ৮০ উইকেট এবং ৩৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৫৪ উইকেট শিকার করেছেন এই ডানহাতি বোলার। ২০১৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ড দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। তার গতি ও আগ্রাসী বোলিংয়ের পাশাপাশি সাবলীল ব্যক্তিত্ব ক্রিকেট সমর্থকদের কাছে ছিল বেশ জনপ্রিয়।
উডের বিদায়ে শোক প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ড পুরুষ দলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি। তিনি বলেন, অ্যাশেজ জয় এবং দুটি বিশ্বকাপ জয়ে উডের অবদান এবং মাঠে দর্শকদের উদ্দীপ্ত করার ক্ষমতা বিরল। বিবিসির ক্রীড়া সাংবাদিক স্টিফেন শেমিল্ট উডের বোলিং নিয়ে মন্তব্য করেন যে, তার রানআপ ও গতিময় বোলিং ক্রিকেটের অন্যতম রোমাঞ্চকর দৃশ্য ছিল। মানবদেহ দ্রুতগতির বোলিংয়ের ধকল নিতে পারে না, আর উডের শরীর এক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
উডের বিদায়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের পেস বোলিংয়ের একটি সমৃদ্ধ অধ্যায়ের অবসান ঘটল। স্টুয়ার্ট ব্রড, জেমস অ্যান্ডারসন ও ক্রিস ওকসের পর উডের অবসরে গত তিন বছরের কম সময়ের মধ্যে ইংল্যান্ড টেস্ট দল প্রায় ১৮০০ উইকেটের বিশাল অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চার বোলারকে হারালো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অবসর ঘোষণায় উড বলেন, ‘গত এক বছরের পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি হয়তো অবাক করার মতো কিছু নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চিকিৎসা শেষে আর মাঠে ফেরা হয়নি তার।






