কক্সবাজারের মহেশখালীতে বঙ্গোপসাগরের তলদেশ দিয়ে ১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। দেশের প্রথম এই সমন্বিত সমুদ্র ও স্থলভিত্তিক তেল সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থাটি ৮ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অথচ কার্যকর অপারেটর নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্পটি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অলস পড়ে আছে। ফলে সরকার কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি সাশ্রয় ও দ্রুত তেল খালাসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
প্রকল্পের আর্থিক ও প্রশাসনিক তথ্য
- প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৮ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা।
- বিপিসি কর্তৃক ইতিমধ্যে পরিশোধিত ঋণের কিস্তি: ৩ হাজার ৭৭ কোটি টাকা।
- চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রদেয় কিস্তি: ৬৯০ কোটি টাকা।
- প্রকল্পের লক্ষ্য: ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বার্ষিক সাশ্রয়।
এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল বড় জাহাজ থেকে তেল খালাসের ধীর ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়াটি আধুনিকায়ন করা। এসপিএম ব্যবস্থার মাধ্যমে বড় ট্যাংকারগুলো সাগরে ভাসমান বয়ার সঙ্গে নোঙর করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জ্বালানি খালাস করতে পারবে। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে সেই তেল মহেশখালীর কালারমারছড়ায় থাকা ছয়টি ট্যাংকে জমা হবে। ২০১৮ সালের আগস্টে কাজ শুরু হওয়া এই প্রকল্পের চার দফা সময় বাড়ানোর পর ২০২৪ সালের মার্চে নির্মাণকাজ শেষ হয়।
অপারেটর নিয়োগ ও দরপত্র প্রক্রিয়া
- সর্বশেষ দরদাতা: ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পিটি পের্তামিনা ট্রান্স কনটিনেন্টাল।
- পাঁচ বছরের জন্য চুক্তিমূল্য: প্রায় ১২৮ মিলিয়ন ডলার।
- ভ্যাট ও আয়করসহ মোট চুক্তিমূল্য: ১৫৯.১৩৫ মিলিয়ন ডলার।
- দরপত্র মূল্যায়নকারী: আবুধাবিভিত্তিক আইএলএফ কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্স।
২০২৪ সালের আগস্টে বিপিসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিপিপিইসিকে প্রকল্পটি বুঝে নেওয়ার সনদ প্রদান করে। তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর আগেই ঠিকাদারের ১৮ মাসের কারিগরি গ্যারান্টির মেয়াদ আগস্ট মাসে শেষ হয়েছে। ফলে এখন এসপিএম ব্যবস্থায় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সেই মেরামতের ব্যয় বিপিসিকে বহন করতে হবে। অথচ শুরু থেকেই বিপিসি পুরোনো ও ব্যয়বহুল পদ্ধতিতে ছোট জাহাজে তেল পরিবহন অব্যাহত রেখেছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই এটি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বিষয়টিকে বড় ধরনের বিনিয়োগের অপচয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, দেরির কারণে হওয়া আর্থিক ক্ষতি নিরূপণ করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং গ্যারান্টির মেয়াদের সুবিধা নিতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিপিসির কর্মকর্তাদের মতে, দরপত্র প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং অপারেটর নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র পাওয়ার পরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসপিএম চালু হওয়া সময়ের দাবি, যাতে আমদানি করা জ্বালানির নিরাপত্তা ও পরিবহন খরচ সাশ্রয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আশুলিয়ায় বিস্ফোরণ: সিএনজি সিলিন্ডারে অবৈধভাবে পরিবহন করা হচ্ছিল গ্যাস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রোহিঙ্গাদের জন্য নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকিং সুবিধার প্রস্তাব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই প্রকল্পের ফলে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার মতো সাশ্রয় করা যাবে বলে মনে করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বড় ট্যাংকার থেকে তেল খালাসের ১১ দিনের প্রক্রিয়াটি কয়েক ঘণ্টায় নামিয়ে আনারও কথা ছিল এর মাধ্যমে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখান থেকে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল সরাসরি সমুদ্রের নিচে থাকা পাইপলাইনে পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে তেল খালাসের সময় কমে প্রায় ৪৮ ঘণ্টায় নেমে আসার কথা।






