ভারতের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পীদের সংগঠন সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশন বা সিন্টা (CINTAA)-র অভ্যন্তরীণ বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। সংগঠনের কার্যালয় থেকে গোপনে নথিপত্র সরিয়ে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী কুনিকা সদানন্দ। এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে মনীশ চতুর্বেদী ও প্রীতির কাছ থেকে ফোন পাওয়ার মাধ্যমে। কুনিকা জানান, তারা তাকে দ্রুত সিন্টা কার্যালয়ে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, সংগঠনের পূর্বের কমিটি—যাকে কুনিকা প্রযুক্তিগতভাবে অবৈধ বলে অভিহিত করেছেন—তারা দ্রুতগতিতে বিভিন্ন নথিপত্র সরিয়ে ফেলছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তারা স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানান।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে কুনিকা জানান, দাতব্য কমিশনারের কাছ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ ছাড়া পুলিশ নথি সরানো বন্ধ করতে অপারগতা প্রকাশ করে। তার ভাষ্যমতে, পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন তারা তাদের আটকাতে পারবেন না। কুনিকা আরও বলেন, আদালতের আওতাধীন একটি কার্যালয় থেকে নথিপত্র কেন সরানো হচ্ছে এবং এর পেছনে উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
কুনিকার দাবি অনুযায়ী, নথিপত্রগুলো কার্তিক কমপ্লেক্সের একটি কার্যালয়ে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (FWICE)-এর সদস্যরা সেই টেম্পোটি আটকে দেন এবং তালা লাগিয়ে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, পুনম ধিল্লনের গাড়িতেও নথিপত্র তোলা হচ্ছিল এবং এই পুরো ঘটনার ভিডিও প্রমাণও তাদের কাছে রয়েছে।
সংগঠনের নথিপত্র সরানোর বিষয়ে পদ্মিনী কোলহাপুরের ব্যাখ্যা ছিল যে, তিনি এগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় কুনিকা প্রশ্ন তোলেন, সংগঠনের কার্যালয়ে যারা উপস্থিত আছেন, তাদের কাছ থেকে নথিপত্র কেন নিরাপদ রাখার প্রয়োজন পড়ছে? এছাড়া পুনম ধিল্লন তার ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং ভিডিও করতে বাধা দিয়েছিলেন বলেও কুনিকা অভিযোগ করেন।
পুলিশ পরবর্তী শুনানি ১৬ সেপ্টেম্বর হওয়ার কারণে নথিগুলো তালাবদ্ধ করে চাবি নিজেদের কাছে রাখার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু সেই পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কুনিকা ক্ষোভের সুরে বলেন, গত ৪০ বছরে এমন অদ্ভুত ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ তিনি কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে দেখেননি। এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং পুলিশ কেন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উপাসনা সিং এই বিরোধের সাংবিধানিক দিকটি তুলে ধরেছেন। তার দাবি, ১১ জন সদস্য পদত্যাগ করায় সংগঠনের কমিটি কার্যকরভাবে ভেঙে গেছে। সিন্টার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কমিটির ৫০ শতাংশ বা তার বেশি সদস্য পদত্যাগ করলে সেই কমিটি ভেঙে যায়। ফলে বর্তমান কমিটির কার্যক্রম সংবিধানবিরোধী বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংগঠনটিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার দাবিতে সম্প্রতি একটি সংবাদ সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। নথি সরিয়ে ফেলা এবং নতুন কমিটির বৈধতা নিয়ে এই চলমান দ্বন্দ্ব সিন্টার কার্যক্রমকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কুনিকার এই সরব হওয়ার পর পুরো বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রকাশ্যে কথা বলেছে ন অভিনেত্রী কুনিকা সদানন্দ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এক ভিডিও বার্তায় কুনিকা বলেন, “আজ সিন্টার যে অবস্থা দেখছি, তাতে আমি খুবই দুঃখিত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার ভাষায়, “পুলিশ বলেছিল, আমরা তাদের আটকাতে পারি না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু ততক্ষণে নথির সঙ্গে যা করার তা হয়ে যাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব যখন চলছিল, তখন আমরা পুলিশকে জিজ্ঞেস করেছিলাম—তারা যখন আপনাদের কাগজপত্র দেখিয়েছে, তখন কেন তাদের যেতে দিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা তাদের এটাও জানিয়েছিলাম, এটি একটি পাবলিক ট্রাস্টের কার্যালয় এবং এটি সিন্টার অফিস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোনো কাগজপত্র বা হিসাবের নথিতে তাদের প্রবেশাধিকার নেই।






