আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআরসি) প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হওয়া সংক্রমণের সংখ্যা ৭ হাজার ২২টি, যার মধ্যে ৩ হাজার ৩৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ হাজার ৬৭১ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইবোলার এই সর্বশেষ প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত হয়। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশ থেকে সংক্রমণের সূত্রপাত হলেও, তা দ্রুত সংঘাতকবলিত পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের দুর্গম এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এসব এলাকায় কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা থাকায় সরকারি সেবার অভাব রয়েছে এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামোও অত্যন্ত অপ্রতুল। এর মধ্যেই চলতি সপ্তাহের শুরুতে সাউথ-উবাঙ্গি প্রদেশেও ভাইরাসটির সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা আগে মোট ১৬ বার দেশটিতে আঘাত হেনেছিল।
কঙ্গোর সরকারি মুখপাত্র প্যাট্রিক মুয়ায়া জানিয়েছেন, আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহের শুরুতে সংক্রমণটি সম্ভবত তার সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছিল। বর্তমানে কিছু সূচকে সংক্রমণের হার কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আক্রান্ত ৬১টি স্বাস্থ্য অঞ্চলের মধ্যে ১০টিতে অন্তত ২১ দিন ধরে নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বান্দিবুগিও’ ধরনটির বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি অনুমোদিত হয়নি, যদিও বেশ কিছু পরীক্ষা চলমান রয়েছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এলাকায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে। বিশেষ করে ইতুরির স্কুলগুলোতে ক্লাস শুরুর পর থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুনিয়ার স্কুল কর্মকর্তা রজার মুঙ্গিম্বো জানিয়েছেন, সংক্রমণ ঠেকাতে বিদ্যালয়ে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং শিশুদের একে অপরের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ৫০ বছরে আফ্রিকাজুড়ে ইবোলায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, ইবোলা মূলত সংক্রমিত ব্যক্তি বা প্রাণীর শরীরের তরল—যেমন রক্ত, লালা, বমি, মল, প্রস্রাব, ঘাম ও বুকের দুধের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। মৃত ব্যক্তির দেহ থেকেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে, কারণ মৃত্যুর পরও ভাইরাসটি সক্রিয় থাকতে পারে। তবে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এটি বায়ুবাহিত হয় না।
ইতুরির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অ্যাঞ্জেল মাগানি জানিয়েছেন, সন্তানদের সুরক্ষা নিয়ে তারা প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য সুরক্ষার সবরকম ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিচ্ছে, তবুও পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দুশ্চিন্তা কাটছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা, সংকট বাড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্রিকসের যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ‘লাগাম টানার’ আহ্বান, সমর্থন জানাল ইরান-আমিরাত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কঙ্গোর ইতিহাসে ইবোলার সর্বোচ্চ প্রাদুর্ভাব, প্রাণ গেল ৩৩৯৮ জনের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারখানা ভবনগুলো পড়ে আছে, নেই শুধু কর্মসংস্থান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যে রেকর্ডে শচীনকেও ছাড়িয়ে গেলেন রুট। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রায় চার মাসে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিন হাজার ৩৯৮ হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকার জানিয়েছে, রোগটির বিস্তার সম্ভবত ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে সেখানে সরকারি সেবার উপস্থিতি তেমন নেই বললেই চলে।






