মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে ব্রিকস জোটের যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করেছে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সাম্প্রতিক সময়ে বৈরী অবস্থান থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের এই সমর্থনকে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বৈঠক করেন। সংঘাত শুরুর পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা।
আবুধাবির সরকারি মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দুই নেতা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন, স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং শান্তি ও উন্নয়নের পথ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে আলোচনায় কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। রয়টার্সের তথ্যমতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিয়ে জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার মতপার্থক্য দূর করার লক্ষ্যেই এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সম্মেলনে ব্রিকস নেতারা কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করলেও যেকোনো দেশের একতরফা যুদ্ধের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। যৌথ ঘোষণাপত্রে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি বিশ্ববাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি প্রবাহ সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
গাজা যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ব্রিকস জোট সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের আলোকে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অবাধ সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো নীতি বন্ধের দাবি জানিয়েছে জোটটি। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান কেবল শান্তিপূর্ণ উপায়েই সম্ভব বলে ঘোষণাপত্রে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকারের কথা উল্লেখ রয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মেলনে বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সমতা ও ন্যায়বিচারের দিকে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ব্রিকস দেশগুলোর ইতিহাসের সঠিক পক্ষে দাঁড়ানো উচিত। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে রাজনৈতিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি রক্ষার পাশাপাশি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি অর্জনে কাজ করার আহ্বান জানান।
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত সংজয় সুধীর বলেন, যুদ্ধ বন্ধের চাবি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে। তবে ভারত এই অঞ্চলের দেশগুলোকে একই টেবিলে বসিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে সক্ষম হয়েছে। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রিকস জোট এখন ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিয়ে গঠিত। ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই যৌথ বিবৃতি খুব বেশি প্রভাব না ফেললেও উদীয়মান দেশগুলোর কাছে জোটের ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্রিকসের যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ‘লাগাম টানার’ আহ্বান, সমর্থন জানাল ইরান-আমিরাত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারখানা ভবনগুলো পড়ে আছে, নেই শুধু কর্মসংস্থান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অতিরিক্ত ওয়ার্কলোডে হাসানের কাউন্টি অভিযান শেষ করল বিসিবি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রিশাদ-আলিসের ঘূর্ণিতে সিরিজ বাংলাদেশের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইনফ্লুয়েন্সারের পরামর্শে কেনাকাটার আগে কী ভাববেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও সম্প্রতি হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যেই ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সহযোগীদের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রিকসের প্রাথমিক সদস্য ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও এতে যোগ দিয়েছে মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও আরব আমিরাত।






