ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় তারকা দম্পতি মৌসুমী ও ওমর সানী। ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ পারিবারিকভাবে ও ঘনিষ্ঠ দুই চলচ্চিত্র পরিচালকের উপস্থিতিতে চুপিসারে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তারা। বিয়ের দেড় বছর পর ২ আগস্ট আয়োজন করা হয় বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের সম্পর্কের রসায়ন এখনো অটুট। দীর্ঘ এই পথচলায় নানা গুঞ্জন ও আলোচনা উঠলেও, একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ও ত্যাগের মাধ্যমেই তারা সংসার টিকিয়ে রেখেছেন বলে জানান সানী।
মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব, পরিবারের প্রতি আন্তরিকতা এবং আচরণের মুগ্ধতা এখনো তাকে টানে বলে জানান ওমর সানী। স্ত্রীর গুণাবলি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “মৌসুমীর কেয়ারিং এবং ওর জিদটাও আমাকে ভীষণ টানে। ও একটা কথা অনেক জমাট করে রাখতে পারে, আমি পারি না। আমার একটু ধৈর্য কম, ওর একটু বেশি আছে।”
সংসারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সানী বলেন, “একটা সময় ছিল বাবা-মা, আমি আর এখন আমাদের দুই সন্তান ফারদীন, ফাইজা। সন্তানদের নিয়ে ওর যত চিন্তা। এরপর বাকি থাকলে আমি।” খাবার টেবিলের একটি মজার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সন্তানদের পছন্দের খাবার নিয়ে মৌসুমীর ব্যস্ততা আর নিজের হাড্ডি চিবিয়ে খাওয়ার বিষয়টি তাদের সম্পর্কের ছোট ছোট আনন্দের অংশ।
দাম্পত্য জীবনে ভুলত্রুটি থাকা স্বাভাবিক বলে মনে করেন সানী। তিনি বলেন, “আমি তো মানুষ, আমার ভুল হতেই পারে। মৌসুমীও তাই। ওরও ভুল হতে পারে। সমস্যা হয় যখন এসব নিয়ে অতিমাত্রায় লেখালেখি হয়।” এ বিষয়ে মৌসুমীর মন্তব্য তুলে ধরে সানী জানান, মৌসুমী মনে করেন, হয়তো এসব লিখে বা বলে কারো কারো সংসার চলে।
স্ত্রীর বকাঝকা ও খেয়াল রাখার মধ্যেও যে গভীর ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে, তা সানীর কথায় স্পষ্ট। তিনি বলেন, “মৌসুমী মাঝেমধ্যে বোকামির জন্য আমাকে বকাঝকা দেয়। কিন্তু দিনশেষে নিজেই জিজ্ঞেস করে—কী লাগবে, কী রকম লাগবে, কীভাবে লাগবে। সবকিছু মিলিয়ে মৌসুমী ভেরি কমফরট্যাবল।” সবশেষে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “এই বয়সেও এসে আমি বলব, ফারদীন-ফাইজার আম্মু—তোমাকে ভালোবাসি।”
তাদের সম্পর্কের শুরুর গল্পটিও বেশ নাটকীয়। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মহরত অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় তাদের। এরপর পরিচালক শেখ নজরুল ইসলামের মাধ্যমে একটি সিনেমার প্রস্তাব নিয়ে মৌসুমীর মোহাম্মদপুরের বাসায় যান সানী। যদিও অন্য সিনেমার ব্যস্ততায় মৌসুমী সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি।
পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর কয়েকজন প্রযোজকের উদ্যোগে ‘দোলা’ সিনেমায় প্রথমবার জুটি বাঁধেন তারা। সিলেটে শুটিং চলাকালীন দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য হলেও, সেই দূরত্বই পরবর্তীতে ভালো লাগায় রূপ নেয়।
ওমর সানীর মতে, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ধরে রাখার মূলমন্ত্র হলো একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ও ত্যাগ। তাদের দীর্ঘ যাত্রায় বড় কোনো চমকের চেয়ে বোঝাপড়া ও ভালোবাসার ছোট ছোট মুহূর্তই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৩১ বছরের দাম্পত্যে অনেক কিছুই বদলায়—অভ্যাস বদলায়, সংসারের ব্যস্ততা বাড়ে, সন্তানরা বড় হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু, কিছু মানুষের প্রতি মুগ্ধতা থেকে যায় আগের মতোই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্ত্রীর যত্ন নেওয়ার স্বভাব, ধৈর্য আর কখনো কখনো জেদ—এসবই এখনো তাকে টানে বলে জানিয়েছে ন এই অভিনেতা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্ত্রীর জীবনে সন্তানদের গুরুত্বের কথাও উঠে আসে সানীর বক্তব্যে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হয়তোবা দুইটা পয়সার কারণে চাল-ডাল কিনে খায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আসলে হয় কি, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা হচ্ছে একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করা, স্যাক্রিফাইজ করা।






