বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী তিন নেতা—রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে এই তিন নেতার উপস্থিতি রাজধানীজুড়ে এক নজিরবিহীন ও জটিল নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। বিদেশি নেতাদের নিজস্ব নিরাপত্তা দলের সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও বিশেষায়িত বাহিনীর সমন্বয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে।
সম্মেলনস্থল ভারত মণ্ডপম, ভিভিআইপিদের থাকার হোটেল এবং যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে বহুস্তরীয় নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই আয়োজনে ১১টি হোটেল এবং ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ককে বিশেষ নিরাপত্তাবলয়ে রাখা হয়েছে। নাশকতা রোধে ভারত মণ্ডপম ও বিভিন্ন হোটেলে দিল্লি পুলিশের ১০০টিরও বেশি প্রশিক্ষিত কুকুর মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডের (এনএসজি) ১০০ জনেরও বেশি কমান্ডো সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিরাপত্তার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তার সাঁজোয়া লিমুজিন ‘অরাস সেনাট’। রাশিয়ার ফেডারেল গার্ড সার্ভিস (এফএসও) এই গাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, যা প্রায়ই ‘চাকার ওপর দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত। শুক্রবার ভারত মণ্ডপমে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে পুতিনকে এই গাড়িতে চড়তে দেখা গেছে। পুতিনের সফরসঙ্গী রুশ নিরাপত্তাকর্মীরা নিজস্ব সরঞ্জামসহ হোটেলে অবস্থান নিয়েছেন, যাদের চারপাশে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা নিয়োজিত রয়েছেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত সংবেদনশীল। তিনি যে হোটেলে থাকছেন, সেখানে নিচতলা থেকে ছাদ পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। শি জিনপিং তার সফরে চীনের রাষ্ট্রীয় গাড়ি নির্মাতা হংছির সাঁজোয়া লিমুজিন ব্যবহার করছেন। এছাড়া আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ এবং রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা মোকাবিলায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (এসপিজি)। ‘স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, সড়ক, রেল, বিমান কিংবা হাঁটার সময় প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের আইনি দায়িত্ব। এসপিজির কার্যক্রমের মূল ভিত্তি হলো ‘জিরো এরর’ বা কোনো ভুল না করার নীতি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের প্রতিটি সফরে তারা এই কঠোর প্রটোকল মেনে চলে।
সম্মেলনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা কেবল অনুষ্ঠানস্থলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নেতাদের যাতায়াতের পথে নিয়মিত মহড়া চালানো হচ্ছে এবং ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। হোটেলের কর্মীদের পরিচয় ও অতীত ইতিহাস যাচাই করা হয়েছে। প্রতিটি বিদেশি নেতার নিজস্ব নিরাপত্তা দল ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে, যাতে নিরাপত্তার কোনো স্তরে ফাঁক না থাকে।
উল্লেখ্য, এই সম্মেলনের বাইরেও দেশে জরুরি পরিস্থিতি বিদ্যমান। হামের উপসর্গে দেশে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০১৯ জনে। এছাড়া নেপালে আকস্মিক বন্যার পর উত্তরাখন্ডে ১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ লেক চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জাতীয় চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনের নিরাপত্তা সামলানো ভারতের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারখানা ভবনগুলো পড়ে আছে, নেই শুধু কর্মসংস্থান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একের পর এক কারিগরি ত্রুটিতে মানুষের মনে প্রশ্ন স্যাবোটাজ কি না: রিজভী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্রিকস সম্মেলন / দিল্লিতে পুতিনের ‘চলন্ত দুর্গ’, ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায়’ শি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘গত মৌসুমে আমার চেয়ে ভালো কেউ খেলেনি’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গাড়িটির কাঠামো শক্তিশালী করে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর সাঁজোয়া ও সাধারণ, দুই সংস্করণই একইসঙ্গে উন্নয়ন করা হয়েছিল বলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে গাড়িটি শুধু আনুষ্ঠানিক পরিবহনের জন্য নয়।






