সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও পরিস্থিতি
- প্রধানমন্ত্রী: ৫-৭ দিনের মধ্যে গ্যাস পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে।
- চট্টগ্রাম: গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির কাছে পাসপোর্ট মেলেনি, প্রতারণার ধরন অজানা।
- টিআইবি: সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়ায় মতপ্রকাশ ও বাকস্বাধীনতা হরণের ঝুঁকি রয়েছে।
- আইনশৃঙ্খলা: ব্যবসায়ীকে ‘নিখোঁজের পর’ বন্ধু মাসুমের জিডি করার ঘটনা।
- বরিশাল: প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের মরদেহ উদ্ধার।
২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা এবং বন্দরনগরী হোদাইদা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই ইয়েমেন যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ইরানের সমর্থনপুষ্ট এই গোষ্ঠীটি এডেনভিত্তিক সরকারের পক্ষে থাকা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৫ সালে সৌদি আরব সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি। তবে গত সপ্তাহ থেকে লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন করে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হুতিরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির উত্তরের হানিশ ও মায়ুন দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ইয়েমেনি সামরিক সূত্রের দাবি, এই অভিযানের পেছনে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সরাসরি নির্দেশনা ছিল। কৌশলগত এসব এলাকা দখলে নেওয়ায় এখন হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতা ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যা বৈশ্বিক শিপিং রুট ও সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা না দিলেও সৌদি আরবের বাণিজ্যিক ও জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে তারা আটকে দেবে। তাদের শর্ত হলো, ইয়েমেনের ওপর থেকে সৌদি অবরোধ তুলে নিতে হবে। এদিকে, সৌদি-সমর্থিত বাহিনী লোহিত সাগরের উপকূল ধরে দক্ষিণে ধুবাবের দিকে অবস্থান নিয়েছে, যা প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের ৩ লাখ সদস্যের সরকারি বাহিনীর তুলনায় আড়াই লাখ সদস্যের হুতি বাহিনী এখন অনেক বেশি আধুনিক ও উন্নত। দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি জানান, ইরান থেকে পাওয়া ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের কারণে হুতিদের সক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে। এই বিজয় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক প্রভাব হ্রাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলোর নজর এড়াবে না।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুতিদের ওপর হামলার জন্য চাপ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত সরাসরি সামরিক অভিযানে যাওয়ার পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ইতোমধ্যে সৌদি আরবে জরুরি বৈঠক করছেন।
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলম সালেহ বলেন, ইরান এখন হরমুজ প্রণালির বাইরেও সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যা ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ইয়েমেনে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত নিকোলাস হপটন মনে করেন, রিয়াদ এখন আলোচনার টেবিলে ফিরবে নাকি যুদ্ধের তীব্রতা বাড়াবে, তার ওপরই এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। যুক্তরাষ্ট্রও এক জটিল দোটানায় আছে; সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে তা ইরানের বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধকে উসকে দেবে, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে পশ্চিমা স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্যবসায়ীকে ‘হত্যার পর মরদেহ লুকিয়ে’ জিডি করতে যান বন্ধু মাসুম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২২ সালের জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতিতে সংঘাত কিছুটা কমলেও থেমে থেমে লড়াই চলছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপরই দৃশ্যপট দ্রুত বদলে যেতে শুরু করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইয়েমেনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এক চরম অনিশ্চয়তা ও নতুন সামরিক ভূ-রাজনৈতিক সংকটের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাব আল-মান্দেবের কাছে ধুবাব ও পেরিম দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া প্রণালিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সমর্থিত হুতিদের সাম্প্রতিক বিজয়গুলো গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সৌদি, পাকিস্তানি ও ইরানি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইরানকে কঠোর বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান, যেন ইয়েমেনি মিত্র হুতিদের লাগাম টেনে ধরে তেহরান।






