সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ
- বন্ধ কারখানা চালুর জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ তিন মাসেও বিতরণ হয়নি।
- শিল্প খাতে গ্যাসের সরবরাহ আগামী কাল থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে।
- আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে তদন্তে কোনো পক্ষপাত নেই বলে জানিয়েছে দুদক।
- আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট করেছেন যে বিদেশে তার কোনো সম্পদ পাওয়া গেলে তিনি রাজনীতি ছাড়বেন।
- টেস্ট সিরিজের ভেন্যু হিসেবে চট্টগ্রামকে সরিয়ে সিলেটকে বেছে নিয়েছে বিসিবি।
২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা ও বন্দরনগরী হোদাইদা দখলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করলে ইয়েমেনে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ২০১৫ সালে ইয়েমেন সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ইরানের প্রভাব রুখতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে যুদ্ধবিরতি হলেও মাঝে মাঝেই সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। তবে গত সপ্তাহ থেকে লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে হুতিদের জোরালো হামলায় পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দর, বাব আল-মান্দেব প্রণালির উত্তরের হানিশ এবং মায়ুন দ্বীপপুঞ্জ এখন হুতিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। ইয়েমেনের সামরিক সূত্রের দাবি, এই ধারাবাহিক সফলতার পেছনে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সরাসরি নির্দেশনা ও সহযোগিতা রয়েছে। হুতিদের এই অগ্রযাত্রা মোকাবিলায় সৌদি-সমর্থিত বাহিনী দক্ষিণে ধুবাবের দিকে সরে গেছে, যা বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান।
হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির ভাষ্যমতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়া হলেও, সৌদি আরবের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তু হবে। ইয়েমেনের ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত লোহিত সাগরে সৌদি নৌ-চলাচল বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছে গোষ্ঠীটি। পশ্চিম উপকূল ও কৌশলগত দ্বীপপুঞ্জ হুতিদের দখলে যাওয়ায় তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা এখন ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত, যা সৌদি তেল রপ্তানি ও বৈশ্বিক শিপিং রুটের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সমর্থিত হুতিদের বর্তমান শক্তি এক দশক আগের তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক। আড়াই লাখ সদস্যের এই বাহিনী তিন লাখ সদস্যের সরকারি বাহিনীকে অনায়াসেই পরাস্ত করছে। দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি বলেন, গত কয়েক বছরে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে হুতিরা শক্তিশালী সক্ষমতা তৈরি করেছে। এর ফলে বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে তারা ইরানকে বুঝিয়ে হুতিদের লাগাম টানার আহ্বান জানায়। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। মার্কিন প্রশাসন সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়টি এড়িয়ে চললেও, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হুতিদের বিরুদ্ধে হামলার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত নিকোলাস হপটন মনে করেন, ইয়েমেন সরকার আপাতত সামরিক সংঘাতের চেয়ে প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে বেশি আগ্রহী। বর্তমানে রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের ওপরই ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ ও এই অঞ্চলের শান্তি নির্ভর করছে। সরাসরি সামরিক সংঘর্ষে জড়ানো মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ এতে ইরানের বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধ আরও প্রকট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। লোহিত সাগরের এই কৌশলগত প্রবেশপথের ভবিষ্যৎ এখন কূটনৈতিক কৌশলের ওপরই টিকে আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বন্ধ কারখানা খুলতে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ, ৩ মাসে ছাড় হয়নি এক টাকাও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চট্টগ্রামের বদলে টেস্টে বিসিবির ভরসা এখন সিলেট ভেন্যু। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরানের সমর্থনে এই সশস্ত্র গোষ্ঠী তখন থেকেই এডেনভিত্তিক ইয়েমেন সরকারের পক্ষে থাকা সৌদি নেতৃত্বাধীন উপসাগরীয় জোটের বিরুদ্ধে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২২ সালের জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতিতে সংঘাত কিছুটা কমলেও থেমে থেমে লড়াই চলছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপরই দৃশ্যপট দ্রুত বদলে যেতে শুরু করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইয়েমেনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এক চরম অনিশ্চয়তা ও নতুন সামরিক ভূ-রাজনৈতিক সংকটের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।






