সামরিক শিক্ষায় এআইয়ের নতুন রূপরেখা
ভবিষ্যৎ যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামরিক কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ করে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক পাঠ্যক্রম ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের সামরিক গবেষকরা। চীনের জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনইউডিটি) বুদ্ধিমত্তা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের গবেষকরা তাদের সামরিক শিল্পবিষয়ক সাময়িকী ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি কনভার্শান’-এর জুলাই সংখ্যায় এই প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। মূলত আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনী বর্তমানে যুদ্ধের পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও অভিযানে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে। শি জিনপিংয়ের সরকার চায়, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের চেয়ে যেন কোনোভাবেই পিছিয়ে না থাকে তাদের সেনারা। গবেষকদের মতে, বর্তমানে চালু থাকা এআই কোর্সগুলোতে যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি কাজে লাগার মতো বিষয়বস্তুর অভাব রয়েছে। তাই নতুন পাঠ্যক্রমে যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুশীলন যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কোর্সের কাঠামো ও বিশেষ দিকসমূহ
- ২০২২ সালে এনইউডিটি ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মূলনীতি ও চর্চা’ নামে একটি কোর্স চালু করে, যা মূলত বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল।
- নতুন প্রস্তাবিত কোর্সে মানবহীন যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রম শেখানো হবে।
- শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ও অনুসরণ এবং ফলাফল মূল্যায়নের মতো জটিল ধাপগুলো শিখবেন।
- ‘রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে এআই কীভাবে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন জ্ঞান অর্জন করে, তা এই কোর্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন সিমুলেশন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে, যেখানে তারা মানচিত্র তৈরি ও কৃত্রিম যুদ্ধ অনুশীলনের মাধ্যমে এআই এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দিতে পারবে।
- এই প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন দলের এআই এজেন্টদের মধ্যে প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
- গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে এআই কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা যুদ্ধক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে, যা শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে শেখানো হবে।
প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট
এনইউডিটি চীনের সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান, যা সরাসরি কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কবলেও রয়েছে। ২০১৫ সালে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর বিশ্ববিদ্যালয়টিকে তাদের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, চীনের পরমাণু প্রকল্পের সুপারকম্পিউটারে এই প্রতিষ্ঠানটি অননুমোদিত মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।
উল্লেখ্য যে, বর্তমান সময়ে চীন তাদের সামরিক বাহিনীকে প্রযুক্তিনির্ভর করার জন্য নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। এর পাশাপাশি অন্যান্য খাতেও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। যেমন, সরকারি কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভাইভা নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংকের আমানত গ্রাহকরা ফেরত পেতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে, সরকারি তথ্য প্রকাশের আইন থাকলেও ৪৬টি সরকারি সংস্থা তা মানছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মেটা কোম্পানি তাদের কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে এবং চীনের তৈরি মানবাকৃতির রোবট বোল্টের রেকর্ড ভেঙেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তথ্য প্রকাশের আইন থাকলেও মানছে না ৪৬ সরকারি সংস্থা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস / অর্ধেক শিশুই পড়তে ও অর্থ বুঝতে পারে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমন সময় এই প্রস্তাব এলো যখন চীন সেনা সদস্যদের ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব উদ্যোগের কেন্দ্রে আছে সেনাদের মধ্যে প্রযুক্তিগত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত দক্ষতা বাড়ানো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যার ফলে, সেনাদের প্রশিক্ষণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেনাদের প্রশিক্ষিত করে তোলাই চীনের মূল লক্ষ্য।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংকটে থাকা ৫ ব্যাংকের আমানত ফেরত পেতে শুরু করেছেন গ্রাহকেরা।
- প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চীনের সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের রোববারের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।





