চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন লন্ডনের নিউরোসার্জনরা। প্রথমবারের মতো রোগীর মস্তিষ্কের টিউমার অপসারণের অস্ত্রোপচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। গত মে মাসে এই যুগান্তকারী অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। লন্ডনের ন্যাশনাল হাসপাতাল ফর নিউরোলজি অ্যান্ড নিউরোসার্জারিতে ৪৮ বছর বয়সী রিস হিবার্টের পিটুইটারি গ্রন্থির টিউমার অপসারণের মাধ্যমে এই মাইলফলক অর্জিত হয়। ২০২৪ সালে রোগটি ধরা পড়ার পর দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে থাকা হিবার্ট অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন।
অস্ত্রোপচারের সময় ব্যবহৃত এআই সিস্টেমটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। এটি ক্যামেরায় ধারণ করা মস্তিষ্কের ভেতরের দৃশ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু, রক্তনালি ও সংবেদনশীল অংশগুলোকে বিভিন্ন রঙে চিহ্নিত করে দেয়। ফলে সার্জনরা বুঝতে পারেন কোথায় অস্ত্রোপচারের যন্ত্র চালানো নিরাপদ এবং কোন অংশগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। ইউসিএলের রোবোটিকস ও এআই বিশেষজ্ঞ ডা. সোফিয়া বানোর নেতৃত্বে উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তিটি শত শত অস্ত্রোপচারের ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এতদিন গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ থাকলেও রিস হিবার্টের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই এটি প্রথমবারের মতো সরাসরি রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলো।
পিটুইটারি গ্রন্থির টিউমার অপসারণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া, কারণ এটি মস্তিষ্কের এমন একটি স্থানে অবস্থিত যেখানে সামান্য অসাবধানতায় দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে। তবে এই অস্ত্রোপচারে এআই চিকিৎসকদের বিকল্প হিসেবে কাজ করেনি, বরং সার্জনদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সহায়ক তথ্য ও নির্দেশনা প্রদান করেছে। অস্ত্রোপচারের মূল নিয়ন্ত্রণ ছিল চিকিৎসকদের হাতেই। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রিসার্চের অর্থায়নে পরিচালিত একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অংশ হিসেবে এই সফল অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে চিকিৎসাক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। রোগ নির্ণয়, চিকিৎসার পরিকল্পনা এবং মেডিকেল ইমেজ বিশ্লেষণের পর এবার সরাসরি অস্ত্রোপচারের সময়ও এআইয়ের ব্যবহার শুরু হলো। লন্ডনের এই সাফল্য ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য জটিল অস্ত্রোপচারেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি কমে আসার পাশাপাশি রোগীর সুস্থ হওয়ার হারও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৪ সালে রোগটি শনাক্ত হওয়ার পর একপর্যায়ে তিনি প্রায় অন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: টিউমারটির কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি ক্রমেই কমে যাচ্ছিল।






