রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি চার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটের সভায় গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, যাদের ছাত্রত্ব বাতিলের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে তারা হলেন—আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবীব, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম হাসিব, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা বিশাল চক্রবর্তী এবং জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস ও ছাত্রশিবির নেতা আরিফুল ইসলাম। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রেজাউল করিম-২ জানিয়েছেন, আরিফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পেছনে উসকানিদাতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই এই কঠোর সিদ্ধান্তের সুপারিশ করা হয়েছে। যাদের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে তারা হলেন- রাবি আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবীব, ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধ। এছাড়া, ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারু।
এদিকে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করেছে কমিটি। এর মধ্যে রয়েছেন আইবিএ-র শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী তানিম রহমান এবং রাকসু'র সহ-সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম। রাকিবুলের বিরুদ্ধেও ঘটনার ইন্ধনদাতা হিসেবে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, ঘটনাটির প্রেক্ষিতে শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বুলবুল রহমান ও শরীফুল ইসলাম এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার জন্য সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে এবং কিছু বিষয়ে আরও গভীর অনুসন্ধানের প্রয়োজন আছে। তাই চূড়ান্ত ফয়সালার আগে সকলকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আরো তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০