যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে বা মেইল-ইন ভোটে নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা স্থগিত করে আদালত এক ফেডারেল বিচারকের আগের আদেশ বহাল রেখেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ (ইউএসপিএস) আপাতত নতুন এই নিয়ম কার্যকর করতে পারছে না।
চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। ওই আদেশে ডাক বিভাগের ব্যালটের খামে বিশেষ বারকোড যুক্ত করা এবং মেইল-ইন ব্যালট গ্রহণকারী ভোটারদের তথ্য একটি নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালে আপলোড করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে এই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওয়াশিংটন ডিসিসহ ২৩টি অঙ্গরাজ্য আদালতের দ্বারস্থ হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচনে যেকোনো ধরনের জালিয়াতি এড়াতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই মেইল-ইন ভোটের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়মগুলো চালু করা প্রয়োজন। কিন্তু ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন ২৪টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার নির্বাচনী কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেন, এই নিয়মের কারণে অনেক ভোটার সময়মতো তাদের ব্যালট হাতে পাবেন না এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে বিঘ্ন ঘটবে।
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের উদ্বেগ ও আইনি প্রতিক্রিয়া
- রিপাবলিকান কর্মকর্তাদের মতসাতজন রিপাবলিকান নির্বাচনী কর্মকর্তা জানান, একদম নির্বাচনের মুখে এসে নিয়মের এ ধরনের পরিবর্তন মাঠ পর্যায়ে চরম বিভ্রান্তি, ভুল বোঝাবুঝি এবং বিলম্ব তৈরি করবে।
- বিকল্প পরিকল্পনাস্থানীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিগুলো তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখলেও, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভিন্ন কিছু হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প প্রস্তুতি রাখছেন।
- ভোটাধিকার বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কাজর্জিয়ার চেরোকি কাউন্টির নির্বাচন পরিচালক অ্যান ডোভার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, হঠাৎ এমন জটিল নিয়ম চালু হলে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
আইনি এই লড়াইয়ে রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট কাভানাও ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তার মতে, মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের এই চূড়ান্ত নিয়মটি আদালতের সবুজ সংকেত পেতে পারে। তবে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো এবং ক্ল্যারেন্স থমাস ট্রাম্পের পরিকল্পনা আটকে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের সরাসরি বিরোধিতা করেছেন।
মার্কিন নির্বাচনের ইতিহাসে ডাকযোগে ভোটের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিগত দুই বছর আগের সাধারণ নির্বাচনেও দেশটির প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার এই মেইল-ইন ব্যালটের মাধ্যমে তাদের রায় দিয়েছিলেন। বিশেষ করে ওরেগন, ওয়াশিংটন ও কলোরাডোর মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে এই ডাকযোগের ব্যবস্থার ওপর ভোটাররা ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
ডাকযোগে ভোট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি ধাক্কা খাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত জুন মাসেও মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের দিন ডাকযোগে পাঠানো এবং নির্দিষ্ট সিল সংবলিত ব্যালটগুলো গণনার আওতাভুক্ত করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না যাওয়ার জন্য দায়ী আসিফ নজরুল ও অন্তর্বর্তী সরকার: তদন্ত কমিটি।






