
মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবার কোনো নারী দেশটির সরকারপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পেয়েছেন। মরক্কোর মধ্যপন্থী দল 'পিএএম'-এর নেত্রী ফাতিমা জাহরা আল মানসুরিকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছেন দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত দেশটির সংসদ নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন দল সর্বোচ্চ আসন লাভ করায় সাংবিধানিক নিয়ম মেনে রাজপ্রাসাদ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা / আদালতে আপসনামা, এমপি গাজী নজরুলের জামিনে আপত্তি নেই মরিয়মের বাবার।
আরব বিশ্বের ইতিহাসে ফাতিমা জাহরা হলেন দ্বিতীয় নারী যিনি কোনো দেশের সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন। এর আগে তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাজলা বোদেনে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, সংসদীয় নির্বাচনে যে দল সবচেয়ে বেশি আসন লাভ করে, সেই দলের মনোনীত ব্যক্তিকেই দেশের রাজা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দান করেন। যদিও দেশটিতে রাজতন্ত্রের কারণে মূল ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত রাজার হাতেই থাকে। এর আগে তিনি তৎকালীন জোট সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ফাতিমা জাহরাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রাজা যখন জুমার নামাজ বা ঈদের জামাতে অংশ নেন, তখন নারী-পুরুষ আলাদা সারিতে বসার প্রথা থাকায় তার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না।
পিএএম দলের মধ্যে একক কোনো প্রধান নেতা না থাকায় ২০২৪ সাল থেকে এটি সম্মিলিত নেতৃত্বে চলছে। এবার প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য ফাতিমা জাহরার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দলের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ ও দেশটির ফুটবল প্রধান ফাউজি লেকজা। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ফাতিমা জাহরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হবে, সেই অধিকার কেবল রাজার। রাজাকে তিনি 'নারীদের বড় সমর্থক' হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
রাজনীতিতে তাকে অনেকে 'লৌহমানবী' ডাকলেও তিনি নিজে তা মনে করেন না। ২০২১ সালে নিজের দলের এক ম্যাগাজিনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাতিমা বলেছিলেন, তিনি কেবল একজন স্বাধীন ও সচেতন কর্মী হিসেবে কাজ করতে চান। মরক্কোর বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা কিংবা সম্পত্তিতে নারীর সমানাধিকারের মতো স্পর্শকাতর সামাজিক বিষয়ে তাকে সাধারণত জনসমক্ষে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে দেখা যায়।
নির্বাচনে বড় জয় পেলেও নতুন সরকার গঠন করা ফাতিমা জাহরার দলের জন্য বেশ বড় চ্যালেঞ্জের। মরক্কোর পার্লামেন্টে আসন ও সরকার গঠনের সমীকরণ নিম্নরূপ
দলটি কার সাথে জোট বাঁধবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। আগের মেয়াদে পিএএম জোট সরকারের অংশ হলেও, সেই সরকারের প্রধান দল 'ন্যাশনাল র্যালি অব ইন্ডিপেন্ডেন্টসের' সাথে তাদের বর্তমান সম্পর্ক মোটেও ভালো নয়। অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আব্দুল ইলাহ বেনকিরানের নেতৃত্বে বেশ ভালো অবস্থানে ফিরেছে ইসলামিক দল 'জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি'। গত নির্বাচনে মাত্র ১৩টি আসন পাওয়া এই দলটি এবার ৫৪টি আসন ঘরে তুলেছে। তবে নির্বাচনের পর বেনকিরানে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তার দল কোনোভাবেই পিএএম-এর সাথে জোটে যাবে না, বরং তারা বিরোধী দলেই অবস্থান করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০