প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত প্রসারের ফলে বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রের চাহিদা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাম্প্রতিক আলোচনায় ভবিষ্যতের চাকরির বাজারের অনিশ্চয়তা ও তা মোকাবিলার উপায় নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বর্তমানে প্রচলিত প্রায় ৪০ শতাংশ দক্ষতার চাহিদা সম্পূর্ণ বা আংশিক কমে যেতে পারে। এই বাস্তবতায় তরুণদের কেবল একটি নির্দিষ্ট পেশার জন্য প্রস্তুত হওয়া যথেষ্ট নয়, বরং নতুন কিছু শেখার মানসিকতা ও অভিযোজনক্ষমতা অর্জন করা অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের কারণে কোন পেশা সবচেয়ে কম ঝুঁকিতে থাকবে—শুধু সেই চিন্তা না করে বরং নিজের আগ্রহ ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে একটি ‘টুলকিট’ তৈরি করা জরুরি। এতে যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, বিশ্লেষণী চিন্তা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতাগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রয়োজন। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহযোগী পরিচালক ফ্রান্সেসকা ফানেলি জানান, এআই-সাক্ষরতা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মদক্ষতায় পরিণত হয়েছে। নিয়োগদাতারা বর্তমানে কর্মীরা এআই টুল ব্যবহারে কতটা পারদর্শী, তা যাচাই করতে আগ্রহী।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এআই একটি কার্যকর সহায়ক হতে পারে। জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, কভার লেটার লেখা, চাকরির বিবরণ বিশ্লেষণ এবং সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি নিতে এআইয়ের সহায়তা নেওয়া সম্ভব। তবে ফানেলি সতর্ক করে বলেছেন, এআই দিয়ে তৈরি আবেদনপত্রে প্রার্থীর নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন থাকা জরুরি। এমন কোনো ভাষা বা শৈলী ব্যবহার করা উচিত নয়, যা প্রার্থীর স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবছর দেশে প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করছেন। কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাব ও দক্ষতার অমিলের কারণে তারা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। বর্তমানে আইসিটি, ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স, ডিজিটাল মার্কেটিং ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে। সরকারি চাকরির বাইরে বেসরকারি খাতে ইংরেজি দক্ষতা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং এআই ব্যবহারের সক্ষমতা এখন বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশন অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক বলেন, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সব পেশায় এআই সমান প্রভাব ফেলবে না, তাই কারিগরি শিক্ষার মান ও হার বৃদ্ধি করতে পারলে তরুণরা বাজারে টিকে থাকতে পারবে এবং এআইয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হবে।
বিডিজবসের নির্বাহী পরিচালক ফাহিম মাশরুর মনে করেন, চাকরির প্রস্তুতির ভিত্তি তৈরি হতে হবে শিক্ষাজীবন থেকেই। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি বর্তমান পেশাজীবীদের প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিনিয়ত নতুন দক্ষতা অর্জনের মানসিকতা বজায় রাখতে হবে।
তরুণদের প্রতি ফ্রান্সেসকা ফানেলির পরামর্শ হলো, ‘পারফেক্ট’ বা ‘স্বপ্নের চাকরি’ পাওয়ার জন্য নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। একটি চাকরি জীবনের সব প্রত্যাশা পূরণ না-ও করতে পারে। অনেক সময় চাকরি কেবল আর্থিক স্থিতিশীলতার উৎস হিসেবে কাজ করে, আর জীবনের প্রকৃত অর্থ পরিবার, বন্ধুত্ব, সমাজ ও ব্যক্তিগত আগ্রহের জায়গা থেকে খুঁজে নেওয়া সম্ভব। চাকরির আরও তথ্য: ৫ বছরে বদলে যেতে পারে ৪০ শতাংশ দক্ষতা। চাকরির আরও তথ্য: বাংলাদেশে তরুণদের জন্য এই আলোচনা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। চাকরির আরও তথ্য: বিশ্বের সেরা ১০ এক্সিকিউটিভ এমবিএ প্রোগ্রাম, অক্সফোর্ডসহ শীর্ষে আর কারা।






