
এক দশকের বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনা আমল নিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোচনা থামছে না। নেগ্রেইরা কেলেঙ্কারি ঘিরে রিয়াল মাদ্রিদের সাম্প্রতিক তৎপরতায় মেসি-জাভি-ইনিয়েস্তাদের সেই অজেয় বার্সেলোনা পুনরায় বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে উয়েফার কাছে নতুন কিছু নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, যা থেকে প্রশ্ন উঠছে যে, চলমান তদন্ত শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার সেই গৌরবময় যুগের সাফল্যকেও কি বিতর্কের মুখে ঠেলে দেবে? বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিতে বাড়তি খরচ, সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি বস্তিবাসী। মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তা ও বুসকেতসদের নিয়ে গড়া সেই দল শুধু শিরোপাই জেতেনি, ফুটবল খেলার ধরনেও একটি প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছিল।
তদন্তের বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে প্রথমেই উল্লেখ করা জরুরি যে, গার্দিওলার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত অনিয়মের অভিযোগ নেই। রিয়াল মাদ্রিদের নতুন নথি জমার পর বার্সেলোনার বিরুদ্ধে উয়েফা নতুন কোনো মামলা বা শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু করেনি। উয়েফা জানিয়েছে, তারা রিয়াল মাদ্রিদের কাছ থেকে বেশ কিছু নথিপত্র পেয়েছে এবং ২০২৩ সাল থেকে চলমান পর্যালোচনার অংশ হিসেবেই সেগুলো যাচাই-বাছাই করছেন তাদের তদন্তকারীরা। বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত: কিশোরের জামিন নামঞ্জুর।
এই বিতর্কের মূল কেন্দ্রে রয়েছে ২০০১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বার্সেলোনার আর্থিক লেনদেন। এই দীর্ঘ সময়কালে স্পেনের রেফারিং কমিটির সাবেক সহসভাপতি হোসে মারিয়া এনরিকেস নেগ্রেইরার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৭০ লাখ ইউরোর বেশি অর্থ প্রদান করেছিল বার্সেলোনা। এই ঘটনায় স্পেনে স্থানীয় তদন্তের পাশাপাশি উয়েফাও আলাদাভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, এই অর্থ রেফারিংয়ের ওপর প্রভাব খাটানোর জন্য দেওয়া হয়নি, বরং ম্যাচ পরিচালনা সংক্রান্ত কারিগরি বিশ্লেষণ ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য তা পরিশোধ করা হয়েছিল। রিয়াল মাদ্রিদের সর্বশেষ পদক্ষেপের পরও উয়েফার পক্ষ থেকে নতুন কোনো আইনি ব্যবস্থার ইঙ্গিত মেলেনি, যা ক্লাবটি নিজেও নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ দাবি করেছে যে, তাদের সরবরাহ করা নথিতে এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে যা প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা এবং রেফারিংয়ের গ্রহণযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তারা উয়েফাকে দ্রুত এই বিষয়টি সুরাহা করার আহ্বান জানিয়েছে। রিয়ালের এই চাপে গার্দিওলার আমলের বার্সেলোনার প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত মাত্র চার বছরে ১৪টি ট্রফি জেতা সেই দলটি ফুটবল বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে গণ্য হয়। ‘অপকর্মের তথ্য’ গোপন না করে তৃণমূলকে নজরদারিতে রাখার সিদ্ধান্ত বিএনপির। ‘বাচ্চু আমলের’ ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে বেসিক ব্যাংক। রিয়াল মাদ্রিদ অবশ্য বিষয়টি এখানেই থামাতে চাইছে না।
উল্লেখ্য যে, নেগ্রেইরাকে দেওয়া অর্থের সময়সীমা গার্দিওলার কোচিং ক্যারিয়ারের চেয়ে অনেক দীর্ঘ। পিরিয়ডটি গার্দিওলার দায়িত্ব নেওয়ার আগের সময় থেকে শুরু করে তার প্রস্থানের পরেও চলমান ছিল। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠেনি। ২০২৩ সালে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গার্দিওলা জানিয়েছিলেন, আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় আছেন তিনি। তিনি সেই বার্সেলোনাকে যোগ্য বলেই দাবি করেছিলেন এবং तत्कालीन সভাপতি হোয়ান লাপোর্তাকে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসেবে দেখার কথা বলেছিলেন। এর মধ্যে ছিল তিনটি লা লিগা ও দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।
গার্দিওলা বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক নিয়মভঙ্গের মামলার কারণেও আলোচনায় রয়েছেন। এছাড়া বার্সেলোনা ও সিটির মধ্যে ফেরান সোরিয়ানো এবং চিকি বেগিরিস্তাইনের মতো প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের যোগসূত্র থাকলেও, নেগ্রেইরা কাণ্ডের সাথে তাদের কারো কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। চূড়ান্ত কোনো রায় না আসা পর্যন্ত এটি মূলত একটি তদন্তাধীন প্রক্রিয়াই থাকছে, যেখানে রিয়ালের নতুন নথি কেবল চলমান পর্যালোচনারই একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০