বিশ্ব ফুটবলের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতির সময়ে তুর্কি ক্লাব কনিয়াস্পোরের আমন্ত্রণে মাঠে নেমেছিল ফিলিস্তিনের ফুটবল দল। এই প্রীতি ম্যাচটি কেবল খেলার মাঠে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং গাজার বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের একটি বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। খেলার মাঠে তুর্কি সমর্থকদের আনা বিশাল ব্যানারে লেখা ছিল, ‘বাচ্চারা যখন ঘুমায়, তখন চুপ থাকো; কিন্তু যখন তারা মারা যাচ্ছে, তখন চুপ থেকো না।’ সমর্থকদের এমন সংবেদনশীল বার্তার মধ্য দিয়েই ফিলিস্তিনি খেলোয়াড়েরা মাঠে প্রবেশ করেন। যুদ্ধবিগ্রহের মধ্যেও যাঁরা ফুটবলের জয়গান গেয়ে যাচ্ছেন পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে, যুদ্ধ অবসানের পথ খুঁজছেন ফুটবল পায়ে, এই বিরতিতে তাঁদের নিজেদের মাঠে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল তুর্কি ক্লাব কনিয়াস্পোর।
ম্যাচটি শুরু হওয়ার পর ১০ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের মাথায় খেলা সাময়িকভাবে এক মিনিটের জন্য বন্ধ রাখা হয়। ইসরায়েলের চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৪ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ নিহত হয়েছেন, আর তাঁদের স্মরণে এই প্রতীকী শ্রদ্ধা জানানো হয়। ম্যাচের বাকি সময় জুড়ে দুই দলের লড়াই ছিল টানটান উত্তেজনাপূর্ণ, যেখানে ২-২ গোলের সমতায় খেলা এগিয়ে যাচ্ছিল। শেষ মুহূর্তের লড়াই চলাকালেই রেফারি হঠাৎ ম্যাচের লম্বা বাঁশি বাজিয়ে দেন, যার সময় তখন কাঁটায় কাঁটায় ৮৯ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড। এটি কোনো সাধারণ শেষ বাঁশি ছিল না, বরং মাঠের বড় পর্দায় ভেসে ওঠে এক জোরালো বার্তা—’এই ম্যাচ তত দিন পর্যন্ত স্থগিত, যত দিন না ফিলিস্তিন মুক্ত হচ্ছে।’ ১০ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে প্রথমবারের মতো থেমে যায় ম্যাচ। ২-২ গোলের ম্যাচটাকে সাধারণ একটা ম্যাচ ভাবলে ভুল হবে। লিওনেল মেসি: লাল কার্ড দিয়ে শুরু, লেজার শোতে শেষ।
ম্যাচ শেষে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে, এটি কেবল একটি ফুটবলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না, বরং বিশ্বের দরবারে ফিলিস্তিনের আর্তনাদ পৌঁছে দেওয়ার এক অসামান্য প্রচেষ্টা ছিল। অতীতে আফ্রিকান কাপ অব নেশন্স বা আফকনে ৮৫ মিনিটে ম্যাচ শেষের নজির থাকলেও, এবার নির্ধারিত সময়ের এক সেকেন্ড আগে ম্যাচ থামিয়ে ফিলিস্তিনের মুক্তির প্রতীক্ষায় এক প্রতীকী বার্তা দেওয়া হলো। এমন ঘটনা নতুন নয়, আফকনে ৮৫ মিনিটেও ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজানোর ঘটনা আছে।
ফিলিস্তিনের সমর্থনে ফুটবল মাঠে প্রতিবাদের এই ঢেউ শুধু এই ম্যাচেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের মধ্যকার অন্য একটি ম্যাচেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। সেই ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা ইসরায়েলের বিপক্ষে প্রতিবাদ হিসেবে কালো ব্যান্ড পরে মাঠে নেমেছিলেন এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দনও করেননি। গ্যালারি থেকে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বা ‘ফিলিস্তিন মুক্ত করো’ স্লোগানে পুরো স্টেডিয়াম প্রকম্পিত হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ড ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতে নেয়।






