পঞ্চগড়ে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের ঘটনার পর তার অকাল মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়েটি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে। এ ঘটনায় ধর্ষণ ও সহায়তার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার ঝেচুপাড়া এলাকার রাজমিস্ত্রি সুয়েল ওরফে সোহেল (২৫) এবং তার সহযোগী ইজিবাইকচালক রফিকুল ইসলাম ওরফে বাঘা মন্টু (২৩)। গত বৃহস্পতিবার রাতে সোহেল ওই ছাত্রীকে প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে ইজিবাইকে করে হাফিজাবাদ ইউনিয়নের রাজমহল-পূর্ববাগান এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে সোহেলের সহযোগীদের উপস্থিতিতে ওই কিশোরীকে নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্তরা মেয়েটিকে কাউকে কিছু না জানানোর হুমকি দিয়ে রাত দুইটার দিকে মডেলহাটগামী একটি ইজিবাইকে তুলে দেয়। পথিমধ্যে ইজিবাইকের চালক ও অন্য দুই যাত্রীও তাকে হয়রানির চেষ্টা করলে সে চলন্ত যান থেকে লাফিয়ে নিচে নেমে পড়ে। এরপর স্থানীয় এক ট্রাক্টরচালকের সহায়তায় সে রক্ষা পায় এবং রাত আড়াইটার দিকে বিষয়টি ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরদিন বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করলে সোহেল ওই ছাত্রীকে সমাজে মুখ না দেখানোর হুমকি দেয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মানসিক চাপের মুখে শনিবার বেলা ১১টার দিকে মেয়েটি কীটনাশক পান করে। তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত সে আর বেঁচে ফেরেনি।
এ ঘটনায় রোববার মেয়েটির বড় ভাই বাদী হয়ে সোহেলসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে পুলিশ সোহেল ও রফিকুলকে গ্রেপ্তার করে এবং পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। মেয়েটির বড় ভাইয়ের দাবি, সোহেল তার বোনকে বাঁচানোর অজুহাতে ডেকে নিয়ে গিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তিনি অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. রেজওয়ানুল্লাহ জানান, কীটনাশক পানের পর হাসপাতালে ভর্তির সময় বিষয়টি জানা যায় এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল জানান, জড়িতদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের খুঁজে বের করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুলিশ, স্কুলছাত্রীর পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পেশায় রাজমিস্ত্রি শ্রমিক সোহেল ওই স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই স্কুলছাত্রীর বড় ভাই বলেন, ‘আমার বোন না গেলে নাকি সে (সোহেল) বাঁচবে না—এমন কথা বলে নিয়ে গিয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ঘটনায় অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘটনার পর ওই স্কুলছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।






