সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে আয়োজিত রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি। মঙ্গলবার নগর ভবন প্রাঙ্গণে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তবে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে নাগরিক কমিটি গঠন না করা এবং আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে দলটি এই অনুষ্ঠান থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, তাদের দলের কোনো নেতা-কর্মীই এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এটিই দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সিলেট সফর। মূলত হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যেই তিনি এক দিনের এই সফরে এসেছেন। সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি মাজার জিয়ারত সম্পন্ন করেন। রাষ্ট্রপতির সিলেটে আগমনকে কেন্দ্র করে মহানগর বিএনপির নেতা-কর্মীরা নগরীর বিভিন্ন মোড়ে উপস্থিত হয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। দলীয় নেতাদের ভাষ্যমতে, তারা রাষ্ট্রপতির সফরকে স্বাগত জানালেও সিটি করপোরেশনের আয়োজক প্রক্রিয়ার ওপর আপত্তি থাকায় নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নিচ্ছেন না।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী জানান, নাগরিক কমিটি গঠনসহ পুরো আয়োজনে স্বচ্ছতার অভাব ছিল। এই স্বেচ্ছাচারিতার কারণে কেবল মহানগর বিএনপি নয়, দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ অনেকেই সংবর্ধনা বর্জনের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, সিসিকের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছাড়া রাষ্ট্রপতির অন্যান্য সব রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে দলের পক্ষ থেকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হবে এবং তারা সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নাগরিক সংবর্ধনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। এতে নগরীর সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও বিএনপির বয়কটের ঘোষণা আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দলের নেতারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান রেখেই তারা নাগরিক সংবর্ধনার প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সোমবার থেকেই নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করেছিল। যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগ তুলে দলের একটি বড় অংশ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে আসছে। শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এই কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে সিলেট মহানগর বিএনপি। তবে মাজার জিয়ারত ও রাষ্ট্রপতির অন্যান্য সফরসূচিতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা বাধা সৃষ্টির কথা দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।






