ইউরোপে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা প্রধানদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাশিয়া ন্যাটোর সক্ষমতা ও পারস্পরিক ঐক্য পরীক্ষা করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক দেশটির পার্লামেন্টে এমন আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করে জানান, রাশিয়া ন্যাটোর কোনো সদস্যদেশে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে জোটের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা আর্টিকেল ৫-এর কার্যকারিতা যাচাই করতে চাইতে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সক্রিয় হয়েছেন। টাস্কের সতর্কতাকে তিনি তথ্যভিত্তিক হিসেবে উল্লেখ করে ফ্রান্সের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা এবং ২০২৭ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেছেন। বৈঠকে রাশিয়ার হুমকি ও সামগ্রিক ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
চেক প্রজাতন্ত্রের গোয়েন্দা সংস্থা বিআইএসের প্রধান মিখাল কুদেলকা জানান, রাশিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপের তালিকায় ন্যাটোর ভূখণ্ডে সীমিত আকারের অনুপ্রবেশ, ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ বা অন্যের নামে হামলা চালানোর মতো নাশকতা এবং শক্তিশালী প্রভাব বিস্তারমূলক প্রচারণা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এই হুমকি মোকাবিলায় সতর্ক রয়েছে।
লাটভিয়া ও এস্তোনিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক হামলার আশঙ্কার বিষয়ে কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। লাটভিয়ার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান নরমুন্দস মেজভিয়েটস জানান, রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রস্তুতির লক্ষণ থাকলেও এগুলো সরাসরি বড় হামলার পরিকল্পনা নাকি বৃহত্তর কৌশলের অংশ—তা নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে, এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব জোনাতান ভেসিভিওভ এই বিষয়ে আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
সুইডেনের সামরিক গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান থমাস নিলসন জানান, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার মতে, রাশিয়ার নাশকতামূলক তৎপরতার লক্ষ্য হলো ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপীয় সমর্থন কমানো, ন্যাটোর সদস্যদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো। লাটভিয়ার গোয়েন্দা প্রধানের মতে, আগে আতঙ্ক তৈরির জন্য এলোমেলো হামলার প্রবণতা থাকলেও এখন রেল অবকাঠামো, ইউক্রেনকে সহায়তার স্থাপনা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের মতো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নজর দিচ্ছে রাশিয়া।
জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে সম্প্রতি অস্ত্রসজ্জিত ড্রোন উদ্ধার এবং একে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হামলা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাফ জানিয়েছেন, ন্যাটোর ওপর হামলার কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই এবং এই ধরনের ধারণার সঙ্গে বাস্তবতার সম্পর্ক নেই।
ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, মস্কো যুদ্ধ অবসানে কোনো সত্যিকারের আলোচনায় আগ্রহী নয়। তাদের মূল্যায়ন, রাশিয়া এখনো সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে বিশ্বাস করে। ফলে ইউরোপ এখন একদিকে রাশিয়ার সামরিক ও নাশকতামূলক তৎপরতার প্রস্তুতি নেওয়া এবং অন্যদিকে অহেতুক আতঙ্ক প্রশমনের মতো দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। বাল্টিক দেশগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের চাপে রাশিয়ার সক্ষমতা সীমাবদ্ধ থাকলেও ইউরোপে অস্থিরতা তৈরির প্রচেষ্টা তারা বন্ধ করবে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, এটি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কাজ করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার বক্তব্য, হামলার আশঙ্কার বাস্তব কারণ থাকলে কর্তৃপক্ষ তা জানাবে; তার আগে শান্ত থাকা এবং ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখাই প্রয়োজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জার্মান কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনতে পারেনি।






