
ইসরায়েলের রাজনীতির দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী ও কট্টরপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন দেশটির আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করছে। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে দেশটির আরব নেতারা স্থানীয় মুসলিম নাগরিকদের বিপুল সংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মূলত ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশই আরব সংখ্যালঘু, যারা ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনি মুসলিম হলেও দেশটির নাগরিক। ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে প্রয়োজন আরব মুসলিম নাগরিকদের ভোট।
নির্বাচনী সমীকরণে এই জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যবেক্ষকদের মতে, আরব ভোটারদের উপস্থিতি বাড়লে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। বর্তমান জরিপ অনুযায়ী, ১২০ আসনবিশিষ্ট নেসেটে আইজেনকোটের জোট ৫২টি আসন এবং নেতানিয়াহুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোট ৫০টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে মনসুর আব্বাসের ইউনাইটেড আরব লিস্ট পাঁচটি এবং আহমেদ তিবির জয়েন্ট লিস্ট আটটি আসন জিততে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও আইজেনকোট সরাসরি আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের বিষয়ে অনাগ্রহী, তবুও মনসুর আব্বাস মনে করেন নির্বাচনের পরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বাস্তবতাই নতুন জোট গঠনের পথ প্রশস্ত করবে।
মূলত অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এবং পুলিশ মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীরের চরমপন্থা দেশটির আরব ভোটারদের মধ্যে নতুন করে অংশগ্রহণের আগ্রহ তৈরি করেছে।
স্ট্যাট-নেট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, ২০২২ সালের ৫৬ শতাংশের তুলনায় এবার আরবদের ভোটদানের হার বেড়ে ৬৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যাকে মূলত নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর একটি গণভোট হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০