মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেও চীনের সঙ্গে নিজেদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করছে ইরান। দেশটির অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ জানিয়েছেন, চীনের সঙ্গে সামগ্রিক অংশীদারত্ব শক্তিশালী করতে ইরান দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, ইরানে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত কং পেইউয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে দুই দেশের সহযোগিতার বড় সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সহযোগিতার ক্ষেত্র ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
বৈঠকে মাদানিজাদেহ শিল্প বিনিয়োগ, নতুন প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি, সরবরাহব্যবস্থা এবং বিভিন্ন যৌথ শিল্প প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার ইরানের সামরিক বাহিনীর জন্য অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ সংগ্রহের অভিযোগে চীনভিত্তিক বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে এই মার্কিন চাপ সত্ত্বেও চীন এখনো ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে বহাল রয়েছে।
কৌশলগত অংশীদারত্ব ও ২৫ বছরের পরিকল্পনা
সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময়ে ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন এবং মানবিক সহায়তার জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মাদানিজাদেহ। একই সঙ্গে ব্রিকস, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
- ইরান ও চীন বর্তমানে কৌশলগত অংশীদারত্বের একটি নতুন অধ্যায়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
- দুই দেশ তাদের পূর্বঘোষিত ২৫ বছর মেয়াদি সামগ্রিক সহযোগিতা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
- ইরানের অর্থনীতিতে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন বেইজিংয়ের ওপর কতটা কঠোর হবে, তা নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন রয়েছে।




