পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা হলেই কেবল বাংলাদেশ কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য এয়ারবাস থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের সিদ্ধান্তটি জাতীয় প্রয়োজন ও এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো রাষ্ট্রদূত বা বন্ধুপ্রতিম দেশকে খুশি করার জন্য এই চুক্তি হয়নি, বরং বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের বাস্তব চাহিদাই এই সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি। বিমান কেনার সিদ্ধান্তও সরকার জাতীয় প্রয়োজন বিবেচনা করেই নিয়েছে।’। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে করা একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনাই অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাতে এয়ারবাস বা অন্য যেকোনো সহযোগীর সাথে অংশীদারিত্বের মূল ভিত্তি হবে।
চুক্তির বিশদ বিবরণ অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বহরে চারটি দূরপাল্লার এ৩৫০-৯০০ সুপরিসর বিমান এবং ছয়টি এ৩২১নিও স্বল্পপরিসরের বিমান যুক্ত হবে। সরকারি কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সাল নাগাদ এই নতুন উড়োজাহাজগুলো বিমান বহরে যুক্ত হতে শুরু করবে। মূলত জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির আধুনিকীকরণ, জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিতকরণ এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বিমানগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই ক্রয় চুক্তির আওতায় রয়েছে দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটের জন্য চারটি এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ সুপরিসরের বিমান এবং আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটের জন্য ছয়টি এ৩২১নিও স্বল্পপরিসরের বিমান। জ্বালানি-সাশ্রয়ী এসব বিমান সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, রুট নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আরও বলেন, শক্তিশালী ব্যবসায়িক ভিত্তি নিশ্চিত হলে সরকার যেকোনো আইনিভাবে ত্রুটিমুক্ত চুক্তিতে সই করতে প্রস্তুত। তিনি জানান, দেশের স্বার্থ ও চাহিদা অনুযায়ীই বাংলাদেশ তার বাণিজ্য পরিচালনা করে। উন্নয়নের এই যাত্রায় ইউরোপীয় অংশীদাররা সবসময় বাংলাদেশের পাশে ছিল এবং এই অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও জোরালো হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে এয়ারবাস ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার এবং বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ, ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে এবং স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা।
প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থাকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী করবে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতিফলন এই চুক্তি। শেষদিকে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার সফল সমাপ্তির জন্য অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক বিশ্বাস ও সদিচ্ছা উভয়পক্ষের বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে বলে নিশ্চিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই চুক্তি ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি ও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় অংশীদার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের দৃঢ় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের জনগণ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস ও সদিচ্ছা উভয়পক্ষের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করবে এবং আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি, ভবিষ্যতে আমাদের মাঝে আরও অনেক ধরণের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।’।




