
গাজার বর্তমান ধ্বংসলীলা নিয়ে ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন হলিউডের প্রখ্যাত অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। তিনি যুদ্ধের আগের ও পরের স্যাটেলাইট ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, এখন গুগল আর্থ খুললেই গাজার প্রকৃত করুণ চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোলি যদিও সরাসরি ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করেননি, তবে গাজার আবাসিক এলাকাগুলো যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তার মতে, সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার জন্য জরুরি অবকাঠামোর বড় একটি অংশই এখন আর অবশিষ্ট নেই। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিতে বাড়তি খরচ, সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি বস্তিবাসী। আজ রোববার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তিনি লেখেন, ‘গুগল আর্থে অভূতপূর্ব স্পষ্টতায় ধ্বংসযজ্ঞের বাস্তব চিত্র দেখা যায়।’। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন / গাজার ধ্বংসস্তূপে অগণিত মরদেহ, সঙ্গে অবিস্ফোরিত বোমা।
জোলি আরও জানিয়েছেন, গাজায় বর্তমানে প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। তবে খাদ্য ও আশ্রয় তৈরির উপকরণ সরবরাহের ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের বিধিনিষেধ ও বিলম্বের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। শীত মৌসুম আসার আগেই অসহায় মানুষের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ এবং হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। ‘বাচ্চু আমলের’ ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে বেসিক ব্যাংক। মায়ের কথাতেই পিসিবি থেকে দূরে শোয়েব আখতার।
একইসময়ে আল জাজিরার দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে নিখোঁজ থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও এই অঞ্চলে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। A post shared by Angelina Jolie (@angelinajolie)।
জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের (ইউএনওস্যাট) সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, গত এক বছরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার সময়েও গাজায় ধ্বংস হওয়া স্থাপনার পরিমাণ ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর তথ্যমতে, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২ লাখ ভবন রয়েছে। এই ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই পুরোপুরি বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে।
এসব ঘটনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অস্থিরতাও অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি গভীর রাতে মিয়ানমারের উৎপত্তিস্থল থেকে ৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া, গাজায় সাংবাদিকসহ ৮ ফিলিস্তিনির নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতানিয়াহুর উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের ওয়াকআউটের মতো ঘটনাগুলোও গাজা সংকটের তীব্রতাকে নির্দেশ করছে। সব মিলিয়ে, গাজার মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০