১৫ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গণতন্ত্রের সংজ্ঞা ও এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র কেবল সরকার পরিবর্তনের সাময়িক কোনো প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার ও বাকস্বাধীনতা সুরক্ষার প্রধান ভিত্তি। তার মতে, সমাজ থেকে শোষণ ও স্বৈরাচার দূর করে প্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই।
বিগত আওয়ামী সরকারের শাসনামলকে ফ্যাসিবাদী আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন যে, সেই সময় জনগণ তাদের ভোটাধিকার, সামাজিক সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত ছিল। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান দেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিএনপিকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দলটি ক্ষমতায় যাওয়ার আগে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা তারা ক্ষমতায় গিয়ে ভুলে গেছে।
বাংলাদেশ দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস বহন করছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বারবার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের মানুষ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। কিন্তু বারবারই স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হয়েছে। জুলাই বিপ্লব যেন ব্যর্থ না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, কোনো মূল্যে একটি বৈষম্যমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। জামায়াত ইনসাফ ও সততার ওপর ভিত্তি করে একটি সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে, যেখানে আর গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।
প্রশাসনকে সংকীর্ণ দলীয়করণের হাত থেকে মুক্ত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি। এ জন্য দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ঘুষ-দুর্নীতি, দখলদারি ও চাঁদাবাজ মুক্ত করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও গণমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। পরিশেষে, বৈষম্যহীন দেশ গড়ার লক্ষে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।






