ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করেছে। এর পাশাপাশি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণও তারা নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বলয়ে হুতিরা নিজেদের এক অপরিহার্য ও শক্তিশালী পক্ষ হিসেবে প্রমাণ করেছে।
নব্বইয়ের দশকের দিকে জায়েদি সম্প্রদায়ের ওপর ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ তুলে হুতি আন্দোলনের সূচনা হয়। জায়েদিরা মূলত শিয়া ইসলামের একটি শাখা, যারা সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ ইয়েমেনে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচিত। আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আধ্যাত্মিক নেতা বদরুদ্দিন আল-হুতি ও তার ছেলে হোসেনের নামানুসারে এই গোষ্ঠীকে ‘আনসার আল্লাহ’ বলা হয়। ২০০৪ সালে সরকারি বাহিনীর অভিযানে হোসেন নিহত হওয়ার পর তার ভাই আব্দুল মালিক আন্দোলনের হাল ধরেন। বর্তমানে তার নেতৃত্বে প্রশিক্ষিত যোদ্ধারা ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।
হুতিদের উত্থানের পথটি ছিল দীর্ঘ এবং সংঘাতময়। ২০০৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তারা ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে ছয়টি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি ২০০৯-১০ সালে তারা সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গেও যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ২০১২ সালের আরব বসন্তের সময় তারা সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়, যার ফলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ ক্ষমতাচ্যুত হন। পরবর্তীতে হুতিরা সালেহর সঙ্গে জোট গঠন করলেও, ২০১৭ সালে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে হুতিরাই তাকে হত্যা করে।
২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের মধ্য দিয়ে তারা তাদের শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। এর জেরে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তাদের ওপর বিমান হামলা শুরু করে, যা দেশটিতে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ ও মানবিক বিপর্যয়ের জন্ম দেয়। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি হলেও উত্তরের বড় একটি অংশ এখনো তাদের দখলে রয়েছে।
হুতিরা তেহরান নেতৃত্বাধীন ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ অক্ষের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও ইরান তাদের অস্ত্র সরবরাহ করে বলে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে আসছে, তবে হুতিরা হিজবুল্লাহর মতো ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নিজেদের চূড়ান্ত নেতা বলে মনে করে না। তারা সামরিক সাহায্যের জন্য ইরানের ওপর নির্ভরশীল হলেও নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখে।
বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি ইসরায়েলের জন্যও বড় হুমকি। ২০২৪ সালে লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোতে তারা হামলা শুরু করে। তাদের দাবি, গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সমর্থন করতেই এই পদক্ষেপ। এর ফলে অনেক জাহাজ কোম্পানি আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে।
বাব আল-মানদেব প্রণালি আরব উপদ্বীপের ইয়েমেন এবং আফ্রিকার দেশ জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মাঝে অবস্থিত, যার প্রস্থ মাত্র ১৮ মাইল বা ২৯ কিলোমিটার। সুয়েজ খালের সংযোগকারী এই পথটি সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যখন ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দেয়, তখন সৌদি আরব লোহিত সাগরের এই পথটিকেই তেল বিক্রির প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে।
চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধের ঘোষণা দেয়। ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সঙ্গে নতুন সংঘাতের এক পর্যায়ে ৩ সেপ্টেম্বর বাব আল-মানদেব প্রণালি দখলের লক্ষ্যে তারা অভিযান শুরু করে। এক সপ্তাহের মধ্যে লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তারা সৌদি তেলবাহী জাহাজগুলোর ওপর হামলার পথ আরও প্রশস্ত করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলা কিউআরে সন্দেহজনক লেনদেন নিয়ে উদ্বেগ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাঠপর্যায়ে চাহিদার সঠিক হিসাব না থাকায় সারের সংকট। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রেললাইনের পাথর ছুড়ে আসামি ছিনতাই, পুলিশ কনস্টেবল আহত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেন এত গরম, যা জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফের জাদুকরী পারফরম্যান্সে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলে খেলার দাবি জোরালো করলেন কাভান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একসময় হুতিদের একটি বিচ্ছিন্ন ধর্মীয় ও সামরিক গোষ্ঠী হিসেবে দেখা হতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে বদরুদ্দিনের আরেক ছেলে আব্দুল মালিক আন্দোলনের দায়িত্ব নেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি তার অগ্নিঝরা বক্তৃতার মাধ্যমে গোষ্ঠীটিকে উত্তর-পশ্চিমের একটি বিচ্ছিন্ন দল থেকে আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করেন।






