
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে বাকি থাকা ছয়টি টেস্টের মধ্যে অন্তত পাঁচটিতে জয় পাওয়া জরুরি। এই সমীকরণ মাথায় রেখেই আজ থেকে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রাক্কালে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কণ্ঠে শোনা গেছে আশাবাদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পয়েন্ট টেবিলে দলের বর্তমান অবস্থান তাদের জন্য কোনো বাড়তি চাপ নয়, বরং এটি তাদের জন্য বড় ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। তবে সিরিজের শুরুর আগে লিটন কুমার দাস ও মুশফিকুর রহীমের চোট নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছে স্বাগতিক শিবির। এই অভিজ্ঞ দুই ব্যাটারকে না পাওয়া গেলে দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। আমরা গত কয়েকটি সিরিজ ও কয়েক বছরে যেভাবে খেলেছি, সেদিকে মনোযোগ দিতে চাই। তবে ওই ম্যাচে পেসারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট অধিনায়ক। স্কোয়াডের সবাই যেকোনো ম্যাচে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকে। যেকোনো ম্যাচে তাদের মধ্য থেকে কাউকে বেছে নেয়ার সুযোগ আমার জন্য বড় সুবিধা। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেও পরের ম্যাচে পরাজিত হয়েছে।
টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দারুণ সময় পার করছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে সর্বশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্ট পর্যন্ত মোট ১৩টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে জয় পেয়েছে ৭টিতে, ড্র হয়েছে ২টি এবং হার ৪টিতে। বিশেষ করে গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনে পাওয়া ঐতিহাসিক জয়টি ছিল দলের পারফরম্যান্সের সেরা উদাহরণ। এছাড়া মে মাসে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করা ছিল তাদের আরেকটি বড় অর্জন। যদিও সাদা বলের ক্রিকেটে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্সের অভাব থাকলেও টেস্টে দলের উজ্জ্বলতা এখন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ২০২৪ সাল থেকে শুরু না করে শুধু সাম্প্রতিক সময় ধরলেও তাই টেস্টেই বাংলাদেশের পারফরম্যান্স বেশ উজ্জ্বল। বিপরীতে সাদা বলের ক্রিকেট প্রত্যাশা মেটাতে পারছে না।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শান্তর বক্তব্যে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি বলেন, 'এটা খুবই আনন্দের বিষয় যে সবাই এখন টেস্ট ক্রিকেটের জন্য অপেক্ষা করে এবং তা নিয়ে আলোচনা করে। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা।' বর্তমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই চক্রে আগের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো খেলছে বলে মনে করেন তিনি। তার লক্ষ্য হলো ফাইনালের হিসেব-নিকেশ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে নিজেদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ঠিক রাখা। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষ চারে থাকাটা তার কাছে চাপের চেয়ে অনুপ্রেরণাই বেশি।
দলের কৌশল প্রসঙ্গে অধিনায়ক জানান, পেস বোলাররা এখন নিজেদের ভূমিকা নিয়ে বেশ সচেতন এবং কোন পরিস্থিতিতে কাকে ব্যবহার করতে হবে সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট। ইবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদের পাশাপাশি তাসকিন আহমেদের লাল বলের ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন পেস বোলিং বিভাগকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিভিন্ন বিকল্প থাকাটা দলের জন্য বড় সুবিধা বলে মনে করছেন তিনি। সম্প্রতি আরব আমিরাত সফরে ওয়ানডেতে ভালো করতে না পারলেও টেস্ট ফরম্যাটে এই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে চায় দল। যদিও ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে দলের মধ্যে এখনো উদ্বেগ রয়েছে, বিশেষ করে জিম্বাবুয়ের কাছে হারের বিষয়টি মাথায় রাখছেন কোচিং স্টাফরা। প্রস্তুতির দিক থেকে তারা ভালো অবস্থানে আছে।
শেষ পর্যন্ত দলের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে ডারউইনের জয়কে বড় নিয়ামক হিসেবে দেখছেন শান্ত। আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের কাছে গিয়েও ড্র করতে হয়েছিল, কিন্তু সেই ম্যাচ থেকেও ইতিবাচক শিক্ষা নিয়েছে দল। শান্তর মতে, খেলোয়াড়দের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতি করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, যা জয়ের পর আরও বেড়েছে। চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যেতে হলে পয়েন্ট তালিকার সেরা দুইয়ে থাকা আবশ্যক। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজটি বাংলাদেশের সামনে একটি বড় পরীক্ষা। এখন মাঠে পারফরম্যান্সের উন্নতির মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়াই শান্ত ও তার সতীর্থদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০