
ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২ লাখের সীমা অতিক্রম করেছে। জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে দেশটিতে সহিংসতা ব্যাপক আকার ধারণ করায় বাস্তুচ্যুতির হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৩৩ হাজার ৭০০ পরিবারের অন্তত ২ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এদের অধিকাংশই ১ সেপ্টেম্বরের পর বাড়িঘর ছাড়েন, যেখানে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি এই সংখ্যা ছিল ৭৬ হাজার এবং শেষ নাগাদ তা ১ লাখ ৪৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়।
সংঘাতের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ইয়েমেনের ১০টি প্রদেশ। পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ তাইজ প্রদেশে, যেখানে মোট বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রায় ৫৭ শতাংশ অবস্থান করছে। এছাড়া লাহজ, এডেন, আবিয়ান ও হোদেইদাহ প্রদেশের মানুষও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বাস্তুচ্যুতদের প্রধান চাহিদার তালিকায় রয়েছে আশ্রয় (৩৫ শতাংশ), খাদ্য (৩৩ শতাংশ), নগদ সহায়তা (২২ শতাংশ) এবং নিরাপত্তা (১০ শতাংশ)। ৩৫ শতাংশ মানুষ আশ্রয়কে তাদের প্রধান প্রয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনের সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ জানিয়েছেন, জীবন বাঁচাতে মরিয়া মানুষগুলো কোনো নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছে না। তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাবার ও নিরাপত্তা প্রয়োজন। যদিও সংস্থাটি মাঠপর্যায়ে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তবুও প্রয়োজনীয় তহবিলের তীব্র ঘাটতি তাদের কাজের পরিধিকে সীমিত করে দিচ্ছে। তিনি দ্রুত আন্তর্জাতিক দাতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। মাঠপর্যায়ে সংস্থার কর্মীরা কাজ করলেও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব রয়েছে।
সীমানা পেরিয়ে এই সংকটের প্রভাব সামুদ্রিক পথেও অনুভূত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে জিবুতিতে পাড়ি জমিয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় তাদের খাবার ও পানির তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। অন্যদিকে, যারা দেশেই অবস্থান করছেন, তাদের খাদ্যনিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, সরকারি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় প্রতি চারটি পরিবারের তিনটিই খাদ্যসংকটের শিকার।
ত্রাণের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় জাতিসংঘের সংস্থাগুলো বড় ধরনের মানবিক সংকটের আশঙ্কা করছে। অর্থের অভাবে খাদ্য, আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ইয়েমেনের স্বাস্থ্য অবকাঠামো সচল রাখতে অতিরিক্ত অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। একই সময়ে মানবিক সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ঘাটতিও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জরুরি অর্থ না পেলে খাদ্য, আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সক্ষমতা আরও কমে যাবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নিলে ইয়েমেনে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত শুরু হয়। পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তা দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০২২ সালে জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে পরিস্থিতির সাময়িক উন্নতি হলেও সম্প্রতি তা আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মিডল ইস্ট মনিটর, রয়টার্স ও গ্লোবাল ইস্যুজের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০