
জাতীয় ক্রিকেট লীগের (এনসিএল) প্রথম রাউন্ডে ঢাকার বিপক্ষে কঠিন ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল রংপুর বিভাগ। তবে মিরপুরে অধিনায়ক আকবর আলীর ধৈর্যশীল ও লড়াকু হাফ সেঞ্চুরিতে ভর করে দলটি ঘুরে দাঁড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র করতে সক্ষম হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৯ রানে গুটিয়ে যাওয়ার আগে রংপুরের পক্ষে ১৩২ বলে ৬৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসটি খেলেন আকবর। তার এই ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছক্কা। দলের বিপর্যয়ের মুখে আকবরকে ভালো সঙ্গ দিয়েছেন চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইকবাল হোসেন, যারা যথাক্রমে ২৭ ও ২০ রান করেন। শেষদিকে মেহেদী হাসান ১৩ রান যোগ করলে রংপুরের সংগ্রহ ১৪৯ পর্যন্ত পৌঁছায়। ঢাকার হয়ে আরিফ আহমেদ তিনটি, এনামুল হক ও তাইবুর রহমান দুটি করে এবং রিপন মন্ডল, সুমন খান ও মার্শাল আইয়ুব একটি করে উইকেট নিয়েছেন। তার দৃঢ় ব্যাটিংয়েই মূলত ম্যাচে টিকে থাকার পথ তৈরি করে রংপুর। রিজওয়ান ৬৯ বলে ২৭ এবং ইকবাল করেন ২০ রান।
এর আগে রংপুরের প্রথম ইনিংসে ৩৪০ রানের জবাবে ঢাকা তাদের প্রথম ইনিংসে তাইবুর রহমানের ১০৮ রানের ওপর ভিত্তি করে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে। ফলে ৫৬ রানের লিড পায় রংপুর। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৯ রান যোগ করায় ঢাকার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০৬ রান। তবে সময়ের স্বল্পতায় চতুর্থ দিনের শেষ দিকে ঢাকা ৪.১ ওভারে বিনা উইকেটে ৯ রান তুলতেই ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। মোহাম্মদ নাঈম শেখ ৭ ও আনিসুল ইসলাম ২ রানে অপরাজিত ছিলেন। ম্যাচটিতে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তাইবুর পারভেজ। তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ৩ উইকেটে ৬ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করে রংপুর। দিনের শুরুতেই ঢাকার বোলারদের সামনে দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে তারা। তৃতীয় দিন শেষে ১৪ ওভারে ২ উইকেটে ৪৬ রান করেছিল রাজশাহী।
এদিকে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর মধ্যকার ম্যাচটিও ড্র হয়েছে। রাজশাহী তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ২২৮ রান তুলে ম্যাচ ড্র মেনে নেয়। দলীয় সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন সাব্বির, যিনি ১১২ বলের ইনিংসে দুটি চার মেরেছেন। প্রথম ইনিংসেও তিনি ৩৫ রান করেছিলেন। এছাড়া নাঈম আহমেদ ৪৭ ও প্রীতম কুমার ৩৭ রান যোগ করেন। চট্টগ্রামের হয়ে আশরাফুল হাসান ও হাসান মুরাদ তিনটি করে উইকেট পেয়েছেন। প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নেওয়া মুরাদ ম্যাচ সেরা হয়েছেন। এর আগে রাজশাহী প্রথম ইনিংসে ৩৬৪ রান করেছিল, যার জবাবে চট্টগ্রাম মাহমুদুল হাসান জয়ের ১০৫ ও সাদিকুরের ১১৫ রানের ওপর ভর করে ৩৯৩ রান তোলে। এদিন ১৭ রানের লিড নিয়ে শেষ দিনে ব্যাট করতে নামা রাজশাহী শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২২৪ রান করে। ১১২ বলের ইনিংসে দুটি চার হাঁকান এই মিডল অর্ডার ব্যাটার।
অন্যদিকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ময়মনসিংহের বিপক্ষে সিলেট তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগই পায়নি। ময়মনসিংহ প্রথম ইনিংসে ৩১১ রান করার পর সিলেট ৩২৭ রান সংগ্রহ করে। দ্বিতীয় ইনিংসে ময়মনসিংহ ৩২৭ রানে অলআউট হওয়ার পরপরই ম্যাচটি ড্র হিসেবে শেষ হয়। ময়মনসিংহের দ্বিতীয় ইনিংসে মাহফিজুল ইসলাম ১৯৭ বলে ঠিক ১০০ রান করে নাঈম আহমেদের বলে বোল্ড হন। সিলেটের অফ স্পিনার নাঈম ৪০ ওভারে ১১৯ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেন। ময়মনসিংহের আরিফুল ৭২ ও আব্দুল মজিদ ৮৭ রান করে দলের স্কোর বড় করতে ভূমিকা রাখেন। একপর্যায়ে ৪২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদের মুখে পড়ে রংপুর।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০